
বর্ষা মানেই চারিদিকে সবুজের পরশ। সঙ্গে সকাল থেকে অঝোর ধারায়, কখনও জোরে কখনও আস্তে বৃষ্টি। এই ওয়েদারে গাড়ি নিয়ে, প্রিয় মানুষের পাশে বসে যদি পাড়ি দেওয়া যেত পাহাড়ের বুকে প্রকৃতির সন্ধানে, তা হলে বেশ হয় বলুন!

কিন্তু কয়েকদিন আগেই বৃষ্টিতে গোটা উত্তরবঙ্গের যা দশা হয়েছিল, তাতে ভয় পান অনেকেই। তবু মন যে মানে না, খালি ছুটে যেতে চায় সবুজের মাঝে।

প্রশ্ন হল কোথায়? যেখানে ঘুরতে যাওয়া খুব একটা ঝুঁকি পরিপূর্ণ নয়,আবার সবুজের মাঝে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যাবে।

উত্তরটি হল পুরুলিয়া! সামনেই আসছে 'লং উইকেন্ড'। পাহাড় ভালবাসলে বরং টুক করে বেড়িয়ে পড়ুন এই ফাঁকে। বর্ষা রানির সৌজন্যে এই সময়ে পুরুলিয়া এক অন্য রূপে সেজে ওঠে। রাস্তার দু'ধারে শাল, পলাশ এবং শিমুলের সারি।

পুরুলিয়ার অন্যতম আকর্ষণ খয়রাবেড়া নদী। বছরের অনান্য সময় খুব একটা জল না থাকলেও এই সময়ে ফুলে ফেঁপে ওঠে এই নদী। ঘুরতে যেতে পারেন পাঞ্চেতেও। হাতে সময় থাকলে মাছ ধরেও কাটাতে পারেন সময়।

কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন? সকালে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে প্রথমে চলে যান মাইকেল মধুসুদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কাশিপুর রাজবাড়ী। সেখান থেকে ঢুঁ মারুন পুরুলিয়ার অন্যতম আকর্ষণ জয়চণ্ডী পাহাড়ে। তারপর যেতে পারেন সিং দেও রাজত্বের আমলের মন্দির গড় পঞ্চকোটে। অবশ্য বর্গী আক্রমণে ধবংস হয়ে গিয়েছে অনেকটাই। তারপর পাঞ্চেৎ বাঁধ, বড়ন্তি লেক ঘুরে হোটেলে ফিরে যান।

পরের দিন ঘুরে নিন শুশুনিয়া পাহাড়, হাজার বছরের পুরনো মন্দির, পুরুলিয়ার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আদিবাসী গ্রাম। সঙ্গে রয়েছে যাত্রা পথের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

৩ নম্বর দিনের ঘুরে দেখে নিন আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম, পাখি পাহাড়, বামনী ফলস। পাহাড়ের পাথর কেটে পাখি মতো করে তৈরি করা হয়েছে এই পাখি পাহাড়। মানুষের তৈরি এও এক অদ্ভুত সৃষ্টি। চতুর্থ দিনে আবার রওনা হন বাড়ির উদ্দেশ্যে।