
কলকাতা: কবে খেলা ছাড়বেন? প্রশ্ন শুনলেই বরাবর স্মিত হাসেন। জবাব মেলে না চট করে। ইদানীং অবশ্য বলেন, ‘এখন তো উপভোগ করি। যতদিন করব, খেলব!’ ইচ্ছে করলেই যে কোনও দিন বলতে পারেন, ‘ছেড়ে দিতেই পারি, আমার বিকল্প একটা খুঁজে বের করুন না!’ একটা কেন, আধা কিংবা সিকিও খুঁজে পেলে ধন্য হয়ে যাবে ভারতীয় ক্রিকেট। যে লোকটা আক্ষরিক অর্থে ‘বুড়ো’, যে লোকটার এতদিনে অচল হয়ে যাওয়ার কথা, গোঁড়ালির বয়সী ছেলেদের সঙ্গে খেলছেন, তাও অবলীলায় রক্ষা করছেন চেন্নাইয়ের দুর্গ। তিনি পিছনে আছেন মানে পা বাড়িয়ে খেলা আজও ঝুঁকির। মুহূর্তে ছবি হতে যেতে পারেন যে কেউ!
বিরাট কোহলির সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনিই ফ্রেম করে ম্য়াচটা সেল করা হয়েছে। তা না হলে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা থাকবে না যে! তেতাল্লিশের ক্যারিশমা তো এটাই। হাঁটুতে অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও কিপিংয়ে অরুচি নেই। বরং এখনও টিমের অপরিহার্য সদস্য। ধোনিকে ছাড়া আর কাকেই বা চেন্নাইয়ের মুখ ভাবা যেতে পারে। ৪৩ কেন ৫৩তেও বোধহয় সম্ভব হবে না। ঝলক আজও দেখাচ্ছেন যে মাহি। বিশ্ব ক্রীড়ামহল একজনকেই ‘লাইটনিং’ খেতাব দিয়েছিল। উসেইন বোল্ট। যাঁকে আদর করে বলা হত বিদ্যুৎ বোল্ট। ধোনির জন্য থাকবে ফটোফিনিশ মাহি! ছোবলে ছবি! পলকে বিদায়! নিঃশব্দ ঘাতক! বিশেষণে ভরিয়ে দেওয়া যায় চিপকে স্রেফ একটা স্টাম্প দেখলেই।
ফিল সল্ট ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছেন। উঠবেনই তো। এটাই তো তাঁর ধারা। খেলার ধরন। কেকেআর থেকে বয়ে এনেছেন আরসিবিতে। বিরাটের সঙ্গী হয়ে নামছেন। কেকেআর ম্যাচ ছিনিয়েও নিয়ে গিয়েছেন কলকাতা থেকে। চিপকেও তেমনই পরিকল্পনা ছিল। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার তো জানতেন না, উইকেটের পিছনে ঘাপটি মেরে রয়েছেন বিশ্বের সেরা উইকেট কিপার। আফগানিস্তানের নুর আহমেদেরের গুগলিটা মাঠের বাইরে ফেলতে চেয়েছিলেন সল্ট। মিস করেন। আর সঙ্গে সঙ্গে স্টাম্প। সল্ট ক্রিজের ভিতরে ১ মিলিমিটার পা ঢোকানোর আগেই বাড়ি পাঠালেন ধোনি।
ব্যাটে রানের দেখা চাইছেন ভক্তরা। কিন্তু আট নম্বরে নামা ধোনি সে সব নিয়ে ভাবছেন না। বরং উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়েই বিপক্ষকে ধরাশায়ী করছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।