Virat Kohli Fights: বিরাট কোহলি অন্য ধাঁচের। প্রতিপক্ষর কোনও 'ঋণ' রেখে দেন না। তা দ্রুতই ফিরিয়ে দেন। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গেও বিবাদে জড়িয়েছেন বিরাট। খেলার সময় কতটা আবেগ দিয়ে খেললে এমনটা হয়, এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আলোচনায় বিরাটের তেমনই দশ-লড়াইয়ের কাহিনি।
বিরাট কোহলি এবং লড়াই। সেটা ব্যাটে-বলের লড়াই হোক কিংবা পাল্টা স্লেজিং। বিরাটের মধ্যে যেন অজি আগ্রাসন। একটা সময় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্যে এই আগ্রাসন দেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট। তাঁর পরবর্তী সময়ে রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে কিংবা মহেন্দ্র সিং ধোনিরা ঠান্ডা মাথার ক্যাপ্টেন ছিলেন। সেই অর্থে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটার কিংবা সমর্থকদের সঙ্গে কোনও বিবাদে জড়াতে দেখা যায়নি। বিরাট কোহলি অন্য ধাঁচের। প্রতিপক্ষর কোনও ‘ঋণ’ রেখে দেন না। তা দ্রুতই ফিরিয়ে দেন। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গেও বিবাদে জড়িয়েছেন বিরাট। খেলার সময় কতটা আবেগ দিয়ে খেললে এমনটা হয়, এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আলোচনায় বিরাটের তেমনই দশ-লড়াইয়ের কাহিনি।
ফিরে দেখা যাক মাঠের সেই মুহূর্তগুলো…
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ। বিরাট কোহলির দিকে বল ছুড়ে মারেন বাঁ হাতি পেসার মিচেল জনসন। ব্যস, শুরু হয়ে যায় মৌখিক লড়াই। ব্যাট হাতেও জবাব দিয়েছিলেন বিরাট।
২০১৬ সালে অজি অলরাউন্ডার জেমস ফকনারের সঙ্গে বিরাটের লড়াইও ভোলার নয়। ওয়ান ডে ম্যাচ। বিরাটকে খোঁচা দিতেই পাল্টা জবাব পেয়েছিলেন ফকনার। বলেছিলেন, ‘তোমার বোলিংয়ে যথেষ্ট মেরেছি, আর কথা বাড়িও না।’
২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কেসরিক উইলিয়াম উইকেট সেলিব্রেশন বিরক্ত করেছিল বিরাটকে। উইকেট নিয়ে খাতায় নোট করার মতো অঙ্গভঙ্গি করেন। এরপর বিরাট তাঁর বিরুদ্ধে বাউন্ডারি মেরে বিরাটও নোটবুকে টিক মারার মতো সেলিব্রেশনে পাল্টা দেন কেসরিককে।
২০১৩ সালের আইপিএলে বিরাট কোহলি বনাম গৌতম গম্ভীর লড়াই নিয়ে আজও আলোচনা হয়। আরসিবি তারকা বিরাটের আউটের পরই তৎকালীন কেকেআর অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর কিছু বলেন। শুরু হয়ে যায় মৌখিক লড়াই।
২০১৭ সালে স্টিভ স্মিথ বনাম বিরাট কোহলি। পুনে টেস্টে ডিআরএস নেবেন কিনা এর জন্য ড্রেসিংরুমের দিকে ইশারা করেন স্মিথ। ভারত অধিনায় বিরাটও প্রতিবাদ করেন। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে অজি অধিনায়ক স্মিথ বলেছিলেন, ডিআরএসের সেই মুহূর্তে তাঁর মাথা কাজ করছিল না।
২০১৬ সালে বিরাট কোহলি বনাম বেন স্টোকস। দু-জনেই আগ্রাসী ব্যাটার। ওই সিরিজে বেশ কয়েক বার বিবাদে জড়িয়েছেন বিরাট ও স্টোকস।
২০১৮ সালে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বার টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত। সেই সিরিজে একাধিক উত্তপ্ত মুহূর্ত দেখা গিয়েছে। অজি অধিনায়ক টিম পেইনের সঙ্গে চেস্ট বাম্পও দেখা যায় বিরাটের। আম্পায়ার পরিস্থিতি সামাল দেন। টিম পেইনকে ‘টেম্পোরারি ক্যাপ্টেন’ বলেও রাগিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। এমনকি কিপার ঋষভ পন্থও।
২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন ও বিরাট কোহলির বিবাদ অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
২০২৩ সালের আইপিএলে বিরাট কোহলি বনাম আফগান পেসার নবীন উল হকের বিবাক আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। গত ওয়ান ডে বিশ্বকাপে দিল্লিতে ভারত-আফগান ম্যাচেও বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল নবীনকে। দর্শকদের বিরাটই বলেন, দেশের হয়ে খেলার সময়, আর কোনও বিদ্রুপ নয়।
২০২৩ আইপিএলে বিরাট বনাম নবীন উল হকের বিবাদের আঁচ পড়েছিল ডাগআউটেও। আরসিবি বনাম লখনউ ফিরতি ম্যাচে লখনউ মেন্টর গৌতম গম্ভীর ও বিরাট কোহলি বিবাদে জড়ান। গত আইপিএলে অবশ্য সব ঠিক হয়ে যায়। আর এখন তো গৌতম গম্ভীর ভারতীয় দলের কোচ, বিরাট তাঁর কোচিংয়েই খেলেন।