
প্যারিস: একটা অলিম্পিক পদক বদলে দেয় অনেকের জীবন। সেই পদকের রং যদি সোনালি হয়? অলিম্পিক থেকে সোনা পেলে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন অ্যাথলিট। তাঁকে চিনে ফেলে সারা দুনিয়া। চার বছরের পরিশ্রম অ্যাথলিটকে তুলে দেয় সাফল্যের এভারেস্টে। খ্যাতি, যশ সবই এনে দেয় সোনা। সেই পদক যেমন বদলে দিল চিনা অ্যাথলিটকে, জীবনটাও পাল্টে দিল এক লহমায়। অলিম্পিক আসলে উৎসবের মহামঞ্চ। বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই প্রতিযোগীরা হাজির হয়েছেন প্যারিসে। সেখানেই ঘটে গেল আশ্চর্য ঘটনা।
ব্যাডমিন্টনে জেং সিকে সঙ্গী করে সোনা জিতেছেন হুয়াং ইকিয়ং। তাঁর সোনার স্বপ্নপূরণ হতেই সোনার মেয়েকে পেয়ে গেলেন লিউ ইউচেন। সারা ম্যাচে টিমকে সাপোর্ট করেছেন। সেই সঙ্গে লিউয়ের মাথায় যে আরও কিছু ছিল, তার আঁচ পাওয়া গিয়েছে মেডেল সেরেমনির পর। সোনাজয়ী হুয়াংকে জীবনসঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দিলেন। সোনার মঞ্চ থেকে নেমেই হাঁটু মুড়ে বসেন লিউ। হুয়াংকে আংটি বের করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। একে সোনা জেতার পর থেকে উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারছিলেন না হুয়াং। বারবার কেঁদে ফেলছিলেন। তার উপর লিউয়ের এমন প্রস্তাবে আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর চোখ থেকে ঝরঝর করে জল ঝরতে থাকে। অলিম্পিকের মঞ্চে এমন দৃশ্য দেখে সকলেই মোহিত।
অলিম্পিক পদকের লক্ষ্য চার বছর একসঙ্গে প্র্যাক্টিস করেছেন হুয়াং ও লিউ। দু’জনের প্রেমও ছিল। কিন্তু পরিণয়ের মঞ্চ যে অলিম্পিক পোডিয়ামকেই বেছে নেবেন লিউ, তা জানতেনই না হুয়াং। তাই লিউয়ের সারপ্রাইজে একেবারে চমকে গিয়েছেন হুয়াং। পরে তিনি বলেওছেন, ‘ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না পুরো ঘটনাটা। আমি ভীষণ ভীষণ ভীষণ খুশি। সোনার পদক জিতে আমাদের কঠিন লড়াইটাকে সম্মান জানাতে পেরেছি। কিন্তু বিয়ের আংটি পেয়ে আমি চমকে গিয়েছি। অলিম্পিকে পদকের জন্য আমি ট্রেনিং করেছি। অন্য কোনও দিকে মন দেওয়ারই সুযোগ পাইনি। লিউ যে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে, ভাবিইনি।’
হুয়াং চিনের সোনার মেয়ে হলেও লিউ কিন্তু পদক পাননি। ডাবলস ইভেন্টে নক আউটেই পা রাখতে পারেননি। টোকিওতে রুপো পাওয়া লিউয়ের এটাই হয়তো শেষ অলিম্পিক। বলেওছেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ অলিম্পিক। যে কারণে এখানে সেরাটা দিতে চেয়েছিলাম। এখানে আমাদের পরিবারও আছে। আমাদের ভক্তরাও আছেন। সবার সামনেই তাই নিজেকে মেলে ধরেছিলাম।’