দাসপুর: ৪০ বছর ধরে তিনি রয়েছেন পঞ্চায়েতের ময়দানে (Panchayat Elections)। আটবার পঞ্চায়েতে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু, হার কি জিনিস, তা এখনও বোঝেন না তিনি। প্রতিবারই জিতেছেন। কথা হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের পঞ্চানন আদককে নিয়ে। জীবনের ৭০টা বছর পেরিয়ে গিয়েছে। বয়স বেড়েছে। কিন্তু শরীরে তার ছাপ ফেলতে দেননি। এখনও সমান উদ্যম। এবারও পঞ্চায়েতের মহারণে ময়দানে নেমেছেন তিনি। এই নিয়ে ৯ বার পঞ্চায়েতের মনোনয়ন দিলেন। রাজনীতিতে এসেছেন ১৯৭২ সালে। তখন বাংলায় সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের কংগ্রেস সরকার। রাজনীতির শুরুটা করেছিলেন কংগ্রেসের হাত ধরেই। তারপর যখন তৃণমূলের জন্ম হল, তখন থেকেই তৃণমূলের একনিষ্ঠ সৈনিক পঞ্চাননবাবু।
প্রথমবার পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন ১৯৮৩ সালে। তারপর থেকে প্রতিবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। জিতে এসেছেন। বিরোধী শিবিরের প্রার্থী হিসেবে যতদিন ভোট দাঁড়িয়েছেন, যথেষ্ট রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও থাকতে হত। কিন্তু কোনও কিছুর কাছে মাথা নত করেননি সহজ-সরল-সোজাসাপ্টা কথা বলা মানুষটা। স্ত্রী অসীমা আদক অবশ্য স্বামী এই রাজনীতিতে যুক্ত থাকা নিয়ে একটু চিন্তিতই থাকেন। মাঝে মধ্যে বলেনও, রাজনীতি ছেড়ে দিতে। কিন্তু কে কার কথা শোনে! বলছেন, ‘নিজে যেমন ভাল বুঝছেন, করছেন। বলা হয়, ছেড়ে দিতে। কিন্তু আমাদের কথা শুনছে না।’
এবারও ভোটে দাঁড়াচ্ছেন পঞ্চাননবাবু। দাসপুর-২ ব্লকের কামালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। টানা আট বার জেনা পঞ্চাননবাবু হারতে শেখেননি। প্রতিবার গ্রাম পঞ্চায়েতে নিজের আসন থেকে জিতে এসেছেন তিনি। কখনও প্রধানের পদ পেয়েছেন, কখনও আবার উপপ্রধান হয়েছেন। রাজ্যে যখন বামেদের রাজত্ব, সেই সময়েও কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। বলছেন, মানুষের সেবায় সারাক্ষণ কাজ চালিয়ে যেতে চান। একটি ছোট্ট মোটর সাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়ান গ্রামে গ্রামে। জয়ের জন্য এবারও ভীষণভাবে আশাবাদী তিনি।
এলাকাবাসীরও বলছেন, ‘পঞ্চাননবাবুর মতো মানুষ হয় না। নির্বাচন যেদিন থেকে দাঁড়িয়েছেন, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত হারেননি। সুনাম আছে। মানুষের জন্য কাজ করছেন। শুধু এবার নয়, পাঁচ বছর পর আবার ভোটে দাঁড়ালে, আবারও জিতবেন।’
৭০ বছর বয়সি পঞ্চানন আদকের রাজনৈতিক ক্যারিশ্মার কথা এককথায় মেনে নিচ্ছেন, তাঁর বিপরীতে ভোটে দাঁড়ানো বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ ঘোড়ুইও। বলছেন, ‘সফল হয়ত উনিই হবেন। কিন্তু আমি দাঁড়িয়েছে বিরোধী হিসেবে। এলাকায় অনেক অন্যায় কাজ হচ্ছে, সেই কারণেই ভোটে দাঁড়িয়েছি।’ তবে মানুষ হিসেবে পঞ্চাননবাবু যে অতি ভাল, তা মেনে নিতে কোনও দ্বিধা রাখছেন না বিজেপি প্রার্থী। বললেন, ‘এখনও পর্যন্ত ওনার গায়ে কালির দাগ লাগেনি। কিন্তু ওনার দলের কিছু ছেলেরা সমস্যা করছে।’