Medinipur: ‘কোলে বাচ্চাকে বসিয়ে বাস থেকে ধাঁ হয়ে গেল!’ একরত্তিকে নিয়ে বিড়ম্বনায় মাছ ব্যবসায়ী

Paschim Medinipur: ছেলে কার? ১৮ মাসের শিশু কন্যাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে রাতের ঘুম ছুটেছে পেশায় মাছ বিক্রেতা রেবতীর। ছুটেছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে।

Medinipur: 'কোলে বাচ্চাকে বসিয়ে বাস থেকে ধাঁ হয়ে গেল!' একরত্তিকে নিয়ে বিড়ম্বনায় মাছ ব্যবসায়ী
শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে রেবতী। নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিম মেদিনীপুর: ছেলে কার? ১৮ মাসের শিশু কন্যাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে রাতের ঘুম ছুটেছে পেশায় মাছ বিক্রেতা রেবতীর। ছুটেছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে। অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে এখন হাসপাতালে দিন কাটছে রেবতীর। এখন বাচ্চার বাবা-মাকে খুঁজে তাঁদের হাতে দুধের শিশুকে তুলে দিতে চান রেবতী। কিন্তু কীভাবে পেলেন এই শিশুটিকে?

মাছ বিক্রি করে বাসে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন ৫০ বছর বয়সী রেবতী। আর তখন অজানা অচেনা এক ব্যাক্তি রেবতীর কোলে এক শিশুকে বসিয়ে দেন। ধরতে বলে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে ওইভাবে রেখেই চম্পট দেন। হইহই করে ওঠেন বাসের সবাই। কিন্তু তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। এখন কী করবেন এই দুধের শিশুটিকে? অগত্যা পুলিশের কাছে ছোটেন রেবতী। কিন্তু পুলিশের পরামর্শ মতো শিশুকে নিজের কাছেই রেখে দেন তিনি। এখন দাসপুর হাসপাতালে ও পরে ঘাটাল হাসপাতালে অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছেন পেশায় মাছ বিক্রেতা ওই মহিলা। ব্যবসা উঠেছে ডগে। শিশুর বাবা-মায়ের খোঁজে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুঁড়া থানার অন্তর্গত মেছগ্রামে। জানা গিয়েছে, ওই মাছ বিক্রেতা মহিলার নাম রেবতী ভুইঞা। বাড়ি দাসপুর থানার জগন্নাথপুরে। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার দুপুরে পাঁশকুঁড়া বাজারে মাছ বিক্রি করে ঘাটাল-পাঁশকুড়া বাসে চড়ে দাসপুরের জগন্নাথপুর গ্রামে বাড়িতে ফিরছিলেন রেবতী। তাঁর সাথেই কোলে এক শিশুকন্যাকে নিয়ে একই বাসে ওঠেন এক ব্যক্তি।

রেবতী দেবীর কথায়, ওই মদ্যপ ব্যক্তির কোলে থাকা এক শিশুকে তাঁর কাছে রাখতে গিয়ে পাশের সিটে বসেন ওই ব্যক্তি। আপত্তি না করে তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে রাখেন। আর এর পরই ঘটে অবাক করা ঘটনা! রেবতী দেবী জানান, মেছগ্রামে বাস থামলে শিশুকে না নিয়েই ঝটপট ওই মদ্যপ ব্যক্তি বাস থেকে নেমে পড়েন। ততক্ষণে বাস দাসপুরের উদ্দেশ্য রওনাও দিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় তিনি কী করবেন ভেবে কুলকিনারা না পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফেরেন। অপেক্ষার পরও শিশুটির খোঁজে কেউ না আসায় তিনি দাসপুর থানার দ্বারস্থ হন। এর পর দাসপুর থানার পুলিশের তরফে শিশুটিকে দাসপুর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে রবিবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তাকে ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে থাকতে হয়েছে রেবতীকে।

এদিকে দাসপুর থানার পুলিশের তরফে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে শিশুটির পরিবারের খোঁজ শুরু করা হয়েছে। খবর দেওয়া হয় চাইল্ড লাইনেও।পুলিশ সূত্রে খবর, শিশুর পরিবারের খোঁজ মিলেছে। ওই শিশুর পরিবের লোক সঠিক তথ্য নিয়ে আসলে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে শিশুটি। অপেক্ষায় রেবতী।

আরও পড়ুন: Jalpaiguri: মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দুর্গা প্রতিমাকে হোসপাইপ দিয়ে বিসর্জন দিল দমকল!

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla