SIR in Bengal: ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু! এবার নন্দীগ্রামে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
SIR: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। খবর পেয়েই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। কাশীনাথ বাবুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শাসকদলের নেতারা।

নন্দীগ্রাম: সংখ্যাটা যেন বেড়েই চলেছে। ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু। এবার নন্দীগ্রাম। মৃত ব্যক্তি নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের ভেকুটিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা কাশীনাথ জানা। পরিবারের দাবি, আধার, প্যান এবং বর্তমান ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকায় গভীর মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন তিনি। সেই আতঙ্ক থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নন্দীগ্রামে বসবাস করছেন কাশীনাথ বাবু। সম্প্রতি খসড়া তালিকা সামনে আসার পর এসআইআরের শুনানি শুরু হতেই নতুন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সবরকম বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুরনো তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। বৃহস্পতিবার নতুন করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি।
মৃতের এক আত্মীয় বলছেন, “এসআইআর নিয়ে খুব চিন্তা করছিল। খাওয়া-দাওয়া করছিল না। খালি বলছিল আমাকে বাংলাদেশ চলে যেতে হবে।” আর এক আত্মীয় বলছেন, “ওনার ডকুমেন্ট সব ঠিক ছিল না। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড অনেক পরে তৈরি হয়েছে। এখন এসআইআরের তালিকা নাম না থাকার কারণে খুবই চিন্তায় ছিলেন।” এক প্রতিবেশী বলছেন, বিএলও ফর্ম নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু উনি বলছিলেন কী জমা দেব আমার কাছে আগের তো কোনও ডকুমেন্ট নেই। ২০২৫ সালে ভোটার কার্ড হয়েছে। বিএলও-কে জানিয়েছিলাম। কিন্তু সবাই যখন বলছে নাম না থাকলে চলে যেতে হবে তখন থেকেই চিন্তায় ছিলেন খুবই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। খবর পেয়েই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। কাশীনাথ বাবুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শাসকদলের নেতা তথা নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তালিকার নামে সাধারণ মানুষের মনে অহেতুক ভীতি সৃষ্টি করার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
