
ছবি: টুইটার
ব্রাসিলিয়া: বন্যায় ভেসে যাচ্ছে গোটা দেশ। বিগত কয়েকদিন ধরে একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তর পূর্ব ব্রাজিলের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। কেবল পেরনামবুকো অঞ্চলেই কমপক্ষে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, আলাগোয়াস অঞ্চলেও বন্যার জলে ভেসে গিয়েছেন দুইজন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আনুমানিক এক থেকে চার হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে।
বিগত এক সপ্তাহ ধরেই গোটা ব্রাজিল জু়ড়েই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এর জেরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার থেকে আরও দাপট বেড়েছে বৃষ্টির। একটানা বৃষ্টির কারণে উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলে ভূমিধস নেমেছে। এই ধসে কমপক্ষে ২৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার আলাগোয়াস অঞ্চলের একটি নদী প্লাবিত হওয়ায়, দুই বাসিন্দা ভেসে গিয়েছে।
ব্রাজিল সিভিল ডিফেন্সের আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্যার জেরে পেরনামবুকোতে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।হড়পা বানে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৩২ হাজারেরও বেশি পরিবারের। রেসিফাই শহরে ইতিমধ্যেই স্কুলগুলি খুলে দেওয়া হয়েছে ত্রাণ শিবিরের জন্য। বন্যায় ঘরছাড়া মানুষদের স্কুলগুলিতেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আলাগোয়াসের রাজ্য় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিগত কয়েকদিন ধরে একটানা বৃষ্টির কারণে মোট ৩৩ টি পুরসভায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জইর বলসেনারো টুইটারে জানিয়েছেন, রাজ্যগুলিতে সশস্ত্র বাহিনী পাঠানো হয়েছে উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য। আলগোয়াসের জন্য আলাদাভাবে ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে ২৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পেরনামবুকো শহরে। এটি গোটা মে মাসে হওয়া বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পেরনামবুকো শহরের গভর্নর পাওলো কামারা বলেন, “কতজন নিখোঁজ, তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রায় ১২০০ সেনাকর্মীকে নৌকা ও হেলিকপ্টারে করে বন্যা দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।”