Fuel Crisis: জ্বালানিতে আরও বড় কোপ, ১ এপ্রিল থেকে রফতানি বন্ধ করছে রাশিয়া, ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেড়ে যাবে?
Russia Fuel Export: রাশিয়ার কাছ থেকে অনেকদিন ধরেই তেল কিনছে ভারত। তবে আমেরিকার আপত্তিতে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় কিছুটা রাশ টানা হয়েছিল। তখন মধ্য প্রাচ্যের কাছ থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে দেয় ভারত। তবে ইরান-আমেরিকার সংঘাতের পরই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয় এবং অপরিশোধিত তেলের আমদানি কিছুটা ব্যহত হয়।

মস্কো ও নয়া দিল্লি: রাশিয়ার একটা সিদ্ধান্ত ভারতে প্রভাব ফেলতে পারে বড় মাপে। শোনা যাচ্ছে, রাশিয়া গ্যাসোলিন (Gasoline) রফতানি বন্ধ করতে পারে। আগামী ১ এপ্রিল থেকেই এই রফতানি বন্ধ (Export Ban) হতে চলেছে। মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে যেখানে জ্বালানি সঙ্কট বাড়ছে, সেখানেই রাশিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্ত আরও চাপ বাড়াবে।
শুক্রবার রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক দেশের শক্তি মন্ত্রককে নির্দেশ দেন যে আগামী ১ এপ্রিল থেকে গ্যাসোলিন রফতানি ব্যান বা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম টিএএসএস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
নোভাক জানিয়েছে, মধ্য প্রাচ্যের সঙ্কটের কারণে বিশ্ববাজারে তেল নিয়েও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। দামের ক্রমাগত ওঠা-পড়া হচ্ছে। ক্রুড তেলের প্রসেসিং গত বছরের মাপেই রয়েছে। তেলের সরবরাহ যাতে স্থিতিশীল থাকে, তার জন্য রাশিয়া সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।
জানা গিয়েছে, রাশিয়ার বেশ কিছু অংশ এবং ইউক্রেনের একটা বড় অংশ, যা এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে গ্য়াসোলিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন রাশিয়ার তেল পরিশোধনাগারে হামলা করছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া গ্যাসোলিন ও ডিজেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে।
ভারতের উপরে প্রভাব-
রাশিয়ার কাছ থেকে অনেকদিন ধরেই তেল কিনছে ভারত। তবে আমেরিকার আপত্তিতে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় কিছুটা রাশ টানা হয়েছিল। তখন মধ্য প্রাচ্যের কাছ থেকে তেল আমদানি বাড়িয়ে দেয় ভারত। তবে ইরান-আমেরিকার সংঘাতের পরই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয় এবং অপরিশোধিত তেলের আমদানি কিছুটা ব্যহত হয়। এখন বিকল্প হিসাবে ভারত রাশিয়ার দিকেই ফের ঝুঁকেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এবার গ্যাসোলিন রফতানি বন্ধ করায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, এতদিন যে কম দামে তেল পাওয়া যাচ্ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাবে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে গেলে, দাম বাড়বে স্বাভাবিকভাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের উপরও। রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে গেলে ভারতকে আবারও ইরাক ও সৌদি আরবের মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে আমদানি খরচ বাড়তে পারে। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে অবিলম্বে কোনও বড় সঙ্কট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেছে।
