
মস্কো: এর আগে বহুবারই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যুদ্ধ নয়, আলোচনার টেবিলেই সমাধান করা উচিত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের। এবার আর দূর থেকে নয়, একেবারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চোখে চোখ রেখে সরাসরি বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যুদ্ধ কোনও সমাধান নয়। মঙ্গলবার, মস্কোয় (৯ জুলাই), ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় ফের একবার ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এই সংঘাতের যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও সমাধান পাওয়া যাবে না। আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ।” এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ভারত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “যুদ্ধ হোক, সংঘাত হোক বা সন্ত্রাসবাদী হামলা হোক, প্রাণহানি হলে মানবতায় বিশ্বাসী প্রত্যেকেই ব্যথিত হয়। কিন্তু যখন নিরপরাধ শিশুদের হত্যা করা হয়, যখন আমরা দেখি নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু, তখন তা হৃদয় ভেঙে দেয়। সেই বেদনা অপরিসীম।” তিনি আরও বলেন, “শান্তি ফেরাতে, ভারত সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমি আপনাকে এবং গোটা বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে চাই, ভারত শান্তির সবসময় পক্ষে থাকবে। গতকাল আমার বন্ধু পুতিনের মুখে শান্তির কথা শুনে আমি আশাবাদী। সাংবাদিক বন্ধুদের আমি বলতে চাই, এটা সম্ভব।” তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আমরা খোলা মনে আলোচনা করতে পেরেছি এবং আমরা অত্যন্ত সম্মানের সাথে যুদ্ধের বিষয়ে একে অপরের চিন্তাভাবনা শুনেছি বলে আমি আনন্দিত।”
শুধু তাই নয়, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করছেন যে ভারতীয়রা, তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও রাশিয়াকে রাজি করিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে, সোমবার এক ব্যক্তিগত নৈশভোজে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই সময়ই তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি তুলেছিলেন। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন ভারতীয়কে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে, জোর করে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য করার ঘটনা সামনে এসেছে। এর পিছনে প্রতারণা চক্রেরও খবর পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এভাবে প্রতারিত হওয়া চার ভারতীয় মৃত্যু হয়েছে। ১০ জন দেশে ফিরে এসেছেন। তবে, তারপরও প্রায় ৩৫-৪০ জন ভারতীয় রাশিয়ায় আটকে আছে বলে অনুমান। এই ভারতীয়রা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করে সরকারের সাহায্য চেয়েছিলেন। এই বিষয়ে নয়া দিল্লির উদ্বেগের প্রেক্ষিতে, তাঁদের দেশে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে রাশিয়া, এমনটাই শোনা যাচ্ছে।