খুঁটিপুজোয় ধামসা-মাদল, দুর্গাপুজোর আগে তাহলে কি এবার দিনবদলের পালা?

মা মনসা ব্যান্ড। শিব দুর্গা মিউজিক। এখানে ধামসা- সহ ছৌ, সাঁওতালি নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পারিশ্রমিকও বেশি নয়। কিন্তু মহামারীর দাপটে যে বায়না আসা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে।

খুঁটিপুজোয় ধামসা-মাদল, দুর্গাপুজোর আগে তাহলে কি এবার দিনবদলের পালা?
বেলেঘাটা ৩৩ পল্লী পুজো কমিটির খুঁটিপুজোয় আনা হয়েছে এই দলকে।

প্রীতম দে

মেদিনীপুর, পুরুলিয়ার অজ-পাড়াগাঁয়ে এরা থাকেন আর বাজান। মেয়েরাও বাজান ঢাক। সেই সঙ্গে চলে সাঁওতালি নাচ। ছৌ নাচ। পেল্লাই সাইজের ধামসা, মাদল, রণ দুন্দুভি কথা মনে পড়িয়ে দেয়। শিল্পকলার অনেকটাই ওঁদের আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে। কাজে দক্ষতাও রয়েছে। কিন্তু কাজ পাওয়া বা না পাওয়া তো কারও হাতে থাকে না।

করোনা, লকডাউন সব মিলিয়ে খুব করুণ অবস্থায় রয়েছেন এই শিল্পীরা। মিটিং-মিছিল বন্ধ। বন্ধ শোভাযাত্রা। আর সবচেয়ে বড় কাজের জায়গা দুর্গাপুজো কি হবে আদৌ? এই প্রশ্নটাই যখন ঘুরপাক খাচ্ছে ওঁদের মনে, তখনই কলকাতা থেকে গেল ফোন। আশার আলো দেখিয়ে বার্তা এল ‘বাজাতে হবে’।

“পুজোয় কী হবে জানা নেই তাই খুঁটি পুজোতেই এদের ডেকে নিলাম। আতিশয্যর জন্য নয়, বিশ্বাস করুন, শুধুমাত্র এদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য”, বললেন বেলেঘাটা ৩৩ পল্লী পুজো কমিটির সুশান্ত ঘোষ। মহিলা পুরুষ মিলিয়ে ২৫ জনের দল। মহিলা ঢাকিদের মধ্যে তপতী দাস কুড়ি বছর ধরে ঢাক বাজাচ্ছেন। বলছেন, “গ্রামে আমাদের গুরু আছেন। তার কাছেই শেখা। কিন্তু এমন দিন কখনও আসেনি গো। পুজোটা হলে বেঁচে যাই।”

পিয়ালী মণ্ডল বয়সে নবীন। চার বছর সবে হাত পাকিয়েছেন ঢাকে। “পুজো হবে না ভাবলেই মন কেমন করছে। মনের পাশাপাশি রুজি-রুটিরও খুব খারাপ অবস্থা। পুজো যেন হয়।” হাতে ঢাকের কাঠি নিয়ে বললেন পিয়ালী।

মা মনসা ব্যান্ড। শিব দুর্গা মিউজিক। এখানে ধামসা- সহ ছৌ, সাঁওতালি নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পারিশ্রমিকও বেশি নয়। কিন্তু মহামারীর দাপটে যে বায়না আসা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। মালিকরাও ভেঙে পড়েছিলেন। নির্মল দাস বললেন, “গোটা দলের দায়িত্ব আমাদের ওপর। এদিকে করোনার জন্য বায়না বন্ধ। তাও এই একটা দুটো ফোন আসছে বলে কিছুটা ভরসা পাচ্ছি। পুজো অবশ্যই হোক। আমরা তাই চাই।”

আরও পড়ুন- ডুকরে কাঁদছে ডোকরা, পাশে পুজো কমিটি

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla