দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড: মোসাদের সঙ্গে তথ্য প্রমাণ আদান-প্রদান এনআইএ-র

বিস্ফোরণের পিছনে জইশ-উল-হিন্দ (Jaish-Ul-Hind) নামক একটি সংগঠনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড: মোসাদের সঙ্গে তথ্য প্রমাণ আদান-প্রদান এনআইএ-র
ফাইল চিত্র।

নয়া দিল্লি: রাজধানীতে ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণের (Israel Embassy Blast) ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তভার নিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। এদিকে, ঘটনার তদন্তে ইজরায়েলের তরফেও উপস্থিত হয়েছে সে দেশের তদন্তকারী সংস্থা মোসাদ (Mossad)-র একটি দল। শুক্রবার দুই তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের মধ্যে দেখা করে এখনও সংগৃহীত তথ্যের আদান-প্রদান ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

গত ২৯ জানুয়ারি ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণের পর চলতি সপ্তাহেই তেল আভিভ (Tel Aviv) থেকে মোসাদের একটি দল ভারতে আসে। এনআইএ (NIA)-কে তদন্তে সাহায্য করতে তাঁরাও ঘটনাস্থান পরিদর্শন করে বেশ কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করে। এরপরই গতকাল দুই তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের মধ্যে দেখা করে সংগৃহীত প্রমাণের আদান প্রদান করে। এছাড়াও কোন পথে তদন্ত এগোনে উচিত, সেই বিষয়েও আলোচনা করা হয় বলেই সূত্রের খবর।

বিস্ফোরণের পিছনে ইরান যোগের সন্দেহ থাকায় মোসাদের দল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সন্দেহভাজন ইরানিদের খুঁজতে সাহায্য করবে বলেই জানানো হয়েছে। ইজরায়েলের তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি একইরকম যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তারসঙ্গে চলতি বছরের এই বিস্ফোরণের কোনও যোগ থাকতে পারে। বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটের পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থারা ইরানি যোগের আরও কিছু প্রমাণ পেয়েছেন বলেই জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভাইয়ের এক টুইটেই পরীক্ষার্থীকে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিল রেল

একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের পিছনে জইশ-উল-হিন্দ (Jaish-Ul-Hind) নামক একটি সংগঠনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ভিকার নামক এক ব্যক্তি টেলিগ্রাম চ্যাটে বিভিন্ন গ্রুপে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে নেয়। দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল বিষয়টি জানার পরই তদন্তে নেমেছিল। আইপি অ্যাড্রেস ট্রাক করে দেখা যায়, টেলিগ্রাম বার্তাটি আফগানিস্তানের হেরাত থেকে পাঠানো হয়েছিল।

তবে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে আদৌই ওই ব্যক্তি বা জঙ্গি সংগঠন যুক্ত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ। তাঁদের সন্দেহ, তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এই মেসেজ করা হতে পারে। এদিকে, শনিবার বিস্ফোরণস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দিল্লি পুলিশ দুই সন্দেহজনক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে, যাঁরা বিস্ফোরণের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই একটি ক্যাব থেকে নেমেছিলেন। ইতিমধ্যেই ওই ক্যাব চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। দুই দেশের তরফেই সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। ইজরায়েলের প্রতিনিধিদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র পর কৃষকদের উপর ‘আঘাত’, বাজেট সমালোচনা রাহুলের