
কলকাতা: বঙ্গ বিজেপিতে সুকান্ত-জমানা শুরুর আগে তিনিই ছিলেন পদ্ম শিবিরের রাজ্য সংগঠনের হর্তাকর্তা। মাঠে-ময়দানে থেকে লড়াই করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকেই বলে থাকেন, বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি আজকের দিনে যে উল্কাগতির উত্থান দেখছে, তার বীজ বপন হয়েছিল দিলীপ-জমানার সময় থেকেই। এসবের মধ্যেই আজ দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে তো আমিই লড়াই করেছি। আর কে পশ্চিমবাংলায় লড়াই করেছে!’ বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। তিনি অবশ্য এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। প্রশ্ন শুনেই শুভেন্দু বলেন, ‘আপনারা ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছেন, ওসব হবে না।’
মেদিনীপুরের বিদায়ী সাংসদ দিলীপ ঘোষকে এবার প্রার্থী করা হয়েছে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে। আজ দুপুরে তিনি পূর্ব বর্ধমানের সাতগাছিয়ায় জনসংযোগে নেমেছিলেন। সেখানেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্যমের কথা বলার সময় দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে তো আমিই লড়াই করেছি। আর কে পশ্চিমবাংলায় লড়াই করেছে! সিপিএম-কংগ্রেস ছিল, এখন সেটিং। বলছে চিরদিন সেটিং করেছে, তাই দোকান উঠে গেল।’
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য নিয়ে আজ কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। যদিও দলের বর্ষীয়ান নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বরং বিজেপির সকলেই যে নরেন্দ্র মোদীকে সামনে রেখে লড়াই করছে, সেটাই বুঝিয়ে দিতে চাইলেন বিরোধী দলনেতা। কিছুটা বিরক্ত হয়েই বললেন, ‘উনি আমাদের সিনিয়র লিডার। তাঁর কথার উত্তর আমাকে ওই ভাবে দিতে হবে কেন? আপনারা ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছেন, ওসব হবে না। সবাই মোদী-বাহিনীর সেনা।’
দিলীপের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বাঁকুড়ার বিদায়ী সাংসদ তথা এবারের প্রার্থী সুভাষ সরকারকেও। তাঁর অবশ্য ব্যাখ্যা দিলীপ ঘোষ ‘আমি’ বলতে সমষ্টিগতভাবে ‘বিজেপির’ কথা বোঝাতে চেয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাঁকুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকারের বক্তব্য, “দিলীপবাবু যে ‘আমি’ বলেছেন, এই ‘আমি’-র মানে হল বিজেপি। বিজেপি লড়াই করেছে। নিশ্চয়ই তিনি সত্য কথাই বলেছেন।”