কলকাতা থেকে অদূরে, ড্রাইভ করে কোথায় গেলে পাবেন মানসিক শান্তি! রইল তারই তালিকা…

কলকাতা থেকে মাত্র ২ ঘণ্টা দূরে এই চন্দননগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে রয়েছে ফরাসি আমলের সমস্ত নিদর্শন। এমনকি এখনও ফরাসিরা পর্যটকরা এই শহরে একবার ঢুঁ না মেরে দেশে ফেরেন না।

কলকাতা থেকে অদূরে, ড্রাইভ করে কোথায় গেলে পাবেন মানসিক শান্তি! রইল তারই তালিকা...
ড্রাইভ করে কোথায় গেলে পাবেন মানসিক শান্তি! রইল তারই তালিকা...

লকডাউন, করোনা আতঙ্ক, সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা- সব মিলিয়ে দমবন্ধ অবস্থা সাধারণ মানুষের। এদিকে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের চাপ, বাড়ির অন্যান্য কাজের বাড়বাড়ন্তে মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাই এবার অল্পদিনের নাহলে এক-দুদিনের ব্রেক হলে মন্দ হয় না। তাই গাড়ি নিয়ে পরিবার বা পার্টনারের সঙ্গে বেড়িয়ে পড়ুন কাছে-দূরে মনোরম পরিবেশে।

কলকাতা-মুর্শিদাবাদ

মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক শহরগুলিতে পৌঁছাতে কলকাতা থেকে সময় লাগে মাত্র ৬ ঘণ্টা। নবাব সংস্কৃতি, রাজপরিবারগুলির একচ্ছত্র শাসনের নিদর্শন এখনও সংরক্ষিত রয়েছে এই জেলার গ্রামগুলিতে । মুঘল সাম্রাজ্যের গরিমা আপনাকে ব্রিটিশ ও নবাবী দুনিয়া ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। টাইমমেসিনে চড়ে পৌঁছে যেতে পারেন আদি বাংলায়। হাজারদুয়ারি প্যালেস, মিউজিয়াম হল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র। তাই হাতে সময় নিয়ে এই জায়গাগুলিতে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন, নিজে ড্রাইভ করেই।

শিলিগুড়ি- তিনচুলে

পূর্ব হিমালয়ান রাস্তার সবচেয়ে নৈসর্গিক দৃশ্যে সাক্ষী থাকে চারচাকা বা দুচাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন। শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার রাস্তা । সুন্দর মনোরম পাহাড়ি আবহাওয়ার মজা নিতে নিতে পৌঁছে যাবেন নিজের গন্তব্যের দিকে। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ির গ্রামগুলির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় মানসিক যত অস্থিরতা রয়েছে, তা পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবেন তিনচুলের মতো অপূর্ব এই পর্যটন কেন্দ্রে। হিমালয়ের ঠান্ডা আবহাওয়া, সবুজে পাইন গাছের ভিড়, হোম-স্টের আপ্যায়ন, পাহাড়ির খাবার আর পার্টনারের উষ্ণ আলিঙ্গন।

কলকাতা- মন্দারমনি

কলকাতা থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টার সময়ের ব্যবধানে পৌঁছানো যাবে মন্দারমনিতে। শরীর ও মনের শান্তির জন্য এই সময় মন্দারমনি হল পারফেক্ট ডেস্টিনেশন। বঙ্গোপসাগরে পা ডুবিয়ে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর সমস্ত ব্যবস্থা এই মুহূর্তে তৈরি রয়েছে মন্দারমনির সব হোটেলগুলিতে। সমুদ্রের বুকে সূর্যাস্ত কিংবা সূর্যোদয়ের দৃশ্যে মিস করবেন না যেন।

কলকাতা- চন্দননগর

পাহাড়, সমুদ্র বা পুরনো বাংলাকে চেনার আগ্রহ না থাকলে, কলকাতার অদূরেই রয়েছে ফরাসি ঔপনেবিশক জায়গা চন্দ্ননগর। মনোরম, সুন্দর সাজানো শহর এই চন্দ্ননগর। ১৬৮৮ সালে প্রথম এই ছোট্ট শহরটি দখল করে ফরাসিরা। পরে ১৭৫৭ সালে গ্রেট ব্রিটেন এই জায়গাটি দখল করে নেয়। বেশ কয়েকবছর যেতে না যেতেই ১৭৬৩ সালে ফের এই সুন্দর ও সাধারণ শহরটি দখল করে বসে। পরবর্তীকালে দেশে ব্রিটিশদের দখলে এলে ১৭৯৪ সালে চন্দ্ননগর দখল করে। এরপর ১৮১৬ সালে আবার ফরাসিরা ফিরে আসে। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এই শহরে রাজত্ব করে ফরাসি শাসকরা। কলকাতা থেকে মাত্র ২ ঘণ্টা দূরে এই চন্দননগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে রয়েছে ফরাসি আমলের সমস্ত নিদর্শন। এমনকি এখনও ফরাসিরা পর্যটকরা এই শহরে একবার ঢুঁ না মেরে দেশে ফেরেন না।

আরও পড়ুন: বিদেশ নয়, দেশেই রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর বিমানবন্দরের হদিশ

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla