বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব চলছে। এই দুর্গাপুজোর জন্যই তো সারাবছর অপেক্ষা করে থাকে বাঙালি। কিন্তু উৎসবের মাঝে নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে গেলেই বিপদ। চারদিন আনন্দ করতে গিয়ে মাটি হতে পারে আপনার বছরের বাকি দিন।
উৎসব মানেই লাগামহীন খাওয়া-দাওয়া। এখন আর ডায়েট বলে কিছু নেই। পোলাও-মাংস থেকে শুরু করে বিরিয়ানি-বিয়ার সবই চলছে। আর এতেই নিঃশব্দে বেড়ে চলেছে কোলেস্টেরলের মাত্রা। রক্তে জমছে খারাপ কোলেস্টেরল।
স্বাস্থ্যের পরোয়া না করে খাওয়া-দাওয়া করলে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা খুব সাধারণ। কিন্তু পুজোর মাঝে একটু সচেতন হয়ে আনন্দ করলেই আপনি কোলেস্টেরলকে বশে রাখতে পারবেন। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আপনার আনন্দও মাটি হবে না।
উৎসবের মরশুমে মাছ-মাংস সবই খাবেন। কিন্তু একবার ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান। গোটা শস্য দিয়ে তৈরি খাবার রাখুন পাতে। এতে আপনার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়বে না এবং হজম স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।
ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে প্যাকেটজাত ফলের রস বা সোডা পানীয় এড়িয়ে চলুন। কিন্তু এ সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখাও জরুরি। তাই ডাবের জল, তাজা ফলের রস পান করুন। এগুলো আপনার কোলেস্টেরলকে বাড়তে দেবে না।
রাত জেগে ঠাকুর দেখেছেন। ভাল ঘুম হয়নি। চোখে-মুখে ক্লান্তি। আবার পরদিন বেরোতে হবে। সকালে উঠে শরীরচর্চা করুন। ভারী ব্যায়াম না করলেও হালকা যোগব্যায়াম করুন। এতে শরীর যেমন ফিট থাকবে, তেমনই কোলেস্টেরল আপনার হাতের মুঠোয়।
পুজোর দিনগুলোতে ঘুম থেকে ওঠার কোনও ঠিক-ঠিকানা থাকে না। তাই ব্রেকফাস্টও ঠিকমতো হয় না। কিন্তু রোজ আমন্ড, আখরোট বা কাঠবাদাম খেতে ভুলবেন না। এতে ভিটামিন ই রয়েছে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
সব শেষে রয়েছে মদ্যপান। উৎসবের মরশুমে যদি দেদার মদ্যপান করেন, কোলেস্টেরল বাড়বেই এবং লিভারেরও বারোটা বাজবে। তাই উৎসবের আবহে মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন। পাশাপাশি ধূমপানও এড়িয়ে চলুন। এই দুই বদঅভ্যাস আপনার কোলেস্টেরল বাড়িয়ে তোলার মূলে থাকে।