
কলকাতা: দিন চারেক আগেও মনে হচ্ছিল, হয়তো মাঠে হাজির থাকতে পারবেন না। তপ্ত আমেদাবাদ তাঁকে কার্যত নিংড়ে নিয়েছিল। আচমকাই হিটস্ট্রোক হয়। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত কেডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। তার মেয়াদ অবশ্য বেশিক্ষণ ছিল না। জানা যায় ডিহাইড্রেশনের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন যেমন, ছাড়াও পেয়ে গিয়েছিলেন। তখন থেকেই একটাই আলোচনা শাহরুখ খানকে (Shah Rukh Khan) নিয়ে চলছে, কিং খান কি চেন্নাইয়ে হাজির থাকবেন? টিম জিতুক আর না-ই জিতুক, এ বছর শাহরুখ মাঠে আসেননি এমন বড় একটা ঘটেনি। কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত যেমন টিমের হাল ধরে রেখেছেন, গৌতম গম্ভীর যে ভাবে বিপক্ষকে মাত করার ছক কষছেন, শাহরুখও তেমনই টিম ম্যানেজমেন্টের পার্ট। যতই মালিক হোন না কেন, আসলে তিনি সব অর্থে নাইট। তাই ফাইনালে নাইট-শো-তে থাকবেন না, ভাবাই যায়নি। কয়েকঘণ্টা আগের ভিডিয়ো বুঝিয়ে দিল শরীর তাঁর কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা কেকেআর।
শাহরুখের মাস্ট্রারস্ট্রোকেই এ বার কেকেআর একেবারে পাল্টে গিয়েছে। যে ক্যাপ্টেনের হাত ধরে দু’বার ট্রফি জিতেছিল কেকেআর, সেই গৌতম গম্ভীরকেই মেন্টর করে ফিরিয়েছেন তিনি। গম্ভীরে তাঁর আস্থা বরাবরই। গম্ভীর আসলে শাহরুখের ভরসার মুখ। এ হেন দিল্লির ছেলেকে ফিরিয়ে দলের অন্দরমহল পাল্টে ফেলেছেন কিং খান। গত কয়েক বছরের কেকেআরের সঙ্গে এই নাইটদের ফারাক কী? আতসকাচের তলায় ফেললে বোঝা যাবে গম্ভীরের উপস্থিতি খুঁটিনাটি সব কিছুতেই প্রভাব ফেলেছে। সুনীল নারিন এর আগেও ওপেনার ছিলেন। ফারাক একটাই কোনও দিন সেঞ্চুরি করেননি। পরপর হাফসেঞ্চুরিও বিরল ছিল তাঁর ব্যাটে। শ্রেয়স আইয়ার, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, বরুণ চক্রবর্তী, হর্ষিত রানা এবং মিচেল স্টার্ক, যে যখন সুযোগ পেয়েছেন, সেরাটা দিয়েছেন। আসলে সম্মিলিত পারফরম্যান্সই একটা টিমকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। এই বিশ্বাস টিমের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন গম্ভীর। আর গম্ভীর যে পারবেন, এ বিশ্বাস তো শাহরুখের ছিলই।
খেতাব আসবে, নাকি আসবে না? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ম্যাচের পর। কিন্তু তার আগে বলতে হবে, টিমকে ফাইনালে তুলতে গেলে একটা প্রক্রিয়া বা সিস্টেম ফলো করতে হয়। গম্ভীর নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন নারিন-শ্রেয়সরা। এই সিস্টেমই তো এ বার মালিক দিল্লি থেকে খুঁজে-পেতে নিয়ে এসেছেন।