
লখনউ: রবিবার (১৯ মে), কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের যৌথ জনসভাকে কেন্দ্র করে দেখা গেল জনগণের তুমুল উন্মাদনা। যার জেরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হল ইন্ডিয়া জোটের একের পর এক সভায়। লোকসভা ভোটের পঞ্চম পর্বের ভোটগ্রহণের আগে, উত্তর প্রদেশের ফুলপুরে, রাহুল-অখিলেশের যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও, উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড় ব্যারিকেড ভেঙে মঞ্চের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করে। যার জেরে প্রায় পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। হট্টগোলের কারণে রাহুল বা অখিলেশ, কেউই ভাষণ দিতে পারেননি। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলতার মধ্যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন রাহুল ও অখিলেশ।
ফুলপুর লোকসভা আসনে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হয়েছেন অমরনাথ মৌর্য। তাঁর সমর্থনেই এই যৌথ সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, দুই নেতাকে কাছ থেকে দেখবার জন্য ব্যারিকেড ভেঙে মঞ্চের দিকে ছুটে আসছেন হাজার হাজার জনতা। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির এক স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যারিকেড ভেঙে মঞ্চের দিকে ছুটে এসেছিলেন। অনেকে মঞ্চেও উঠে পড়েন। অখিলেশ যাদব এবং রাহুল গান্ধী দুজনেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু, তারা কেউই সমাবেশে ভাষণ দিতে পারেননি।
ফুলপুরের সভা ত্যাগ করার পর, রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদব উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের মুঙ্গেরিতে, দ্বিতীয় সভাস্থলে পৌঁছন। ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে এই আসন থেকে লড়াই করছেন কংগ্রেস প্রার্থী রমন সিং। কিন্তু এখানেও একই রকম ‘ধাক্কাধাক্কি’র পরিস্থিতি তৈরী হয়। উত্তেজিত জনতাকে দেখা যায়, ব্যারিকেড ভেঙে মঞ্চে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে। তবে, রাহুল ও অখিলেশ এখানে তাঁদের বক্তৃতা দিয়েছেন।
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করে, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, “আজ সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। বিজেপি-আরএসএস লাগাতার সংবিধানকে আক্রমণ করছে। আমি তাদের বলতে চাই, কোনও শক্তি সংবিধানকে ধ্বংস করতে পারবে না।” রাহুল গান্ধী আরও জানান, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে অগ্নিবীর প্রকল্প বাতিল করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পুরানো প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনবে।
সপা প্রধান অখিলেস জানান, এনডিএ সরকার কৃষক বিরোধী। ইন্ডিয়া জোট কৃষকদের হয়ে লড়াই করছে। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের এই নির্বাচন গণতন্ত্র ও সংবিধান বাঁচানোর নির্বাচন। একদিকে যারা সংবিধান বাতিল করতে চায়। অন্যদিকে আপনি এবং আমি সংবিধান বাঁচাতে চাই। মোদী সরকারের আমলে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হয়নি। বরং, কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। কিন্তু আমরা কৃষকদের জন্য এমএসপি গ্যারান্টি এবং ঋণ মকুবের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা করেছি।”