
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এভারগ্রিন ডিভা রেখা বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক জাদুকরী ব্যক্তিত্ব, যাঁর পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে অজস্র রহস্য ও না-বলা গল্প। অনুরাগীদের কাছে তিনি আজও এক বিস্ময়, যাঁকে নিয়ে চর্চা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি আজও। তাঁর মনের মানুষ কে বা কার জন্য তাঁর হৃদস্পন্দন দোলা দেয়—তা জানার কৌতূহল আজও তুঙ্গে ভক্তমহলে। যদিও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বাঁকে তিনি নিজের মতো করে খোলামেলা কথা বলেছেন। তবে জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ে ১৯৯০ সালে শিল্পপতি মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রেখা। কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথাতেই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। আত্মঘাতী হন স্বামী মুকেশ। সেই গভীর শোক ও ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর এক সাক্ষাৎকারে জীবনের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মনের মানুষের খোঁজের কথা অকপটে জানিয়েছিলেন তিনি।
স্বামীকে হারানোর পর ব্যক্তিগত জীবনের নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে আবারও কি ভালোবাসার খোঁজ করেছিলেন তিনি? এক সাক্ষাৎকারে রেখা নিজেই এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মনের মানুষের দেখা পেলে তিনি আবারও সম্পর্কে জড়াতে পিছপা হবেন না। তবে সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর কিছু নিজস্ব শর্ত বা ভাবনা ছিল।
অভিনেত্রী বলেছিলেন, ”আমি অস্বীকার করব না যে আমি যদি এমন কাউকে পাই, যিনি আমার ভক্তদের ভালোবাসাকে এবং তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ককে মেনে নিতে পারবেন এবং তা ভাগ করে নিতে পারবেন, তবে আমি নিশ্চয়ই বিষয়টি ভেবে দেখব। যদি আমার জীবনে সত্যিই এমন কেউ আসেন, তবে আমি আমার সমস্ত মনঃসংযোগ এবং সময় তাঁকেই উজাড় করে দেব।” শুধু তাই নয়, ভালোবাসার মানুষের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা নিবেদিতপ্রাণ হতে পারতেন তিনি, তা স্পষ্ট করে রেখা আরও যোগ করেছিলেন, ”আমি নিজহাতে তাঁর পোশাক নির্বাচনে সাহায্য করব, তাঁর প্রতিদিনের ডায়েটের দিকে কড়া নজর রাখব। এমনকি তাঁর জন্য নিজে হাতে লাঞ্চ বানিয়ে তা পৌঁছে দেব।”
সম্পর্ক ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে নিজের এই সমর্পিত মনোভাবের কথা বললেও, মাতৃত্ব বা সন্তান ধারণ নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করতেন অভিনেত্রী। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি কখনই সন্তান পছন্দ করেন না। এর নেপথ্যেও ছিল তাঁর এক অদ্ভুত ও আত্মকেন্দ্রিক প্রেমের ভাবনা।
রেখার মতে, তাঁর জীবনে যদি কোনও সন্তান আসত, তবে তাঁর সমস্ত মনোযোগ ও সময় সন্তানের প্রতিই চলে যেত। তিনি মনে করতেন, তখন তাঁর কাছে পৃথিবীর অন্য সবকিছু গৌণ হয়ে যেত এবং সেই মানুষটিকে আর শতভাগ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হতো না। আর তা করলে সেই সঙ্গীর প্রতি চরম অবিচার করা হবে বলেই বিশ্বাস করতেন তিনি। রুপোলি পর্দার গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা এক অন্য রেখাকে সেদিন খুঁজে পেয়েছিল বলিউড।