Health coverage India: স্বাস্থ্যবিমার কোন কোন সুবিধা আপনার ইতিমধ্যেই প্রাপ্য? জেনে নিন
Free health insurance in India: কাগজে-কলমে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থাকলেও কোনও পরিবার যদি না জানে যে তারা সেই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাহলে তা তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হতে পারে। আজকের ‘YOUR INDIA’ কলামে সন্তোষ নায়ার লিখেছেন আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যবিমা সম্পর্কে সচেতনতা এবং চিকিৎসার জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই নিজেদের প্রাপ্য সুবিধাগুলি যাচাই করে নেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়ে।

নয়াদিল্লি: একটি ছোট শহরের একটি পরিবার। পরিবারের এক সদস্যের অস্ত্রোপচারের খরচ মেটাতে নিজেদের পকেট থেকেই পুরো টাকা দিতে হয় তাদের। সেই টাকার একটা অংশ স্থানীয় এক মহাজনের কাছ থেকে ধার করতে হয়। কয়েক মাস পর এক প্রতিবেশীর মুখে তাঁরা জানতে পারেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন তাঁরা। অথচ কেউ কোনও দিন তাঁদের সে কথা জানাননি। এটা কোনও বিরল ভুল নয়। বরং এমনটাই যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) এবং বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (BCG) করা একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY)—ভারতের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের—সুবিধা পাওয়ার যোগ্য প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ এই প্রকল্পের নামই কখনও শোনেননি। অন্য একটি পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম নথিভুক্ত করেছেন, যাতে তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। অথচ নাম নথিভুক্ত করার জন্য সাধারণত কোনও খরচই হয় না।
এই দুটি পরিসংখ্যান একসঙ্গে দেখলে এমন একটি বাস্তব ছবি উঠে আসে, যা নিয়ে ভারতে খুব কমই প্রকাশ্যে আলোচনা হয়। কাগজে-কলমে কোনও অধিকার স্পষ্টভাবে স্বীকৃত হলেও, যাঁদের কথা ভেবে সেই অধিকার তৈরি করা হয়েছে, তাঁরা শুধু কেউ তাঁদের সে কথা জানাননি বলেই সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
মানুষ যদি জানতেই না পারেন যে তাঁদের অধিকার রয়েছে, তা হলে সেই সুবিধার মূল্য কী?
২০১৮ সালে চালু হওয়া আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির জন্য নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক ও জনগণনা-ভিত্তিক মাপকাঠি অনুযায়ী বছরে পরিবারপিছু সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসার খরচের বিমা-সুরক্ষা দেওয়া। কাগজে-কলমে সুবিধাভোগীর সংখ্যার নিরিখে এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
কিন্তু বাস্তবে এই প্রকল্প কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের উপর। যাঁদের জন্য এই প্রকল্প তৈরি, তাঁরা সেটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন কি না, নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করার পদ্ধতি জানেন কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে, যখন হাসপাতালে দ্রুত শয্যার প্রয়োজন, তখন কীভাবে এই সুবিধা ব্যবহার করতে হয়, তা জানেন কি না।
এই সমস্যা শুধু একটি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আয়স্তর নির্বিশেষে ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, সরকারি বা বেসরকারি—কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিমার আওতাতেই তারা নেই। অথচ যেখানে স্বাস্থ্যবিমার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখানেই সচেতনতার অভাবও সবচেয়ে প্রকট। ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিমা সংস্থার শাখা, সরকারি প্রচার শিবির, এমনকী মানুষের পরিচিত ভাষায় প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার সুযোগও তুলনামূলকভাবে কম।
কাগজে-কলমে প্রাপ্য অধিকার আর বাস্তবে সেই অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা—ফারাকটা এখানেই
একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনে এর প্রভাব কতটা, একবার ভেবে দেখুন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কোনও প্রকল্পের অস্তিত্ব থাকা আর পরিবারের কোনও সদস্যকে যখন জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সেই প্রকল্পের কথা পরিবারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগা—দুটি এক বিষয় নয়।
কাগজে-কলমে প্রাপ্য অধিকার এবং বাস্তবে সেই অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার মধ্যে এই ফারাকের মূল্য চোকাতে গিয়ে একটি পরিবারের সঞ্চয়, জমি কিংবা ভবিষ্যতের বহু বছরের উপার্জন নীরবে শেষ হয়ে যেতে পারে। অথচ চিকিৎসার সেই খরচের অন্তত একটা অংশ বহন করার প্রয়োজনই হয়তো ছিল না, যদি পরিবারটি আগে থেকে নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে জানত।
এই অস্বস্তিকর বাস্তবতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একটি সহজ ও কার্যকর পরামর্শ। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নিজেদের যোগ্যতা সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই যাচাই করা যায়। সরকারি ওয়েবসাইট, কাছাকাছি কোনও কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) অথবা প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট হাসপাতালের সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রের সাহায্যে এই কাজ করা সম্ভব। কোনও পরিবার বর্তমানে চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করুক বা না-করুক, যোগ্যতা যাচাই করতে কোনও খরচ হয় না।
আপনি কি জানেন, কোন কোন সুবিধা আপনার ইতিমধ্যেই প্রাপ্য?
এতে অবশ্য গোটা সমস্যার সমাধান হবে না। কোনও প্রকল্পকে সত্যিকার অর্থে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে ধারাবাহিক প্রচার, স্থানীয় ভাষায় সহজবোধ্য তথ্য এবং সমাজের মানুষের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দিলেই হবে না, কারণ তাতে ধরে নেওয়া হয় যে মানুষ আগে থেকেই জানেন কোথায় খোঁজ করতে হবে।
তবে কোনও সঙ্কট তৈরি হওয়ার আগেই একটি পরিবার যদি আজই নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে নেয়, তা হলে সমস্যার অন্তত একটি দিকের সমাধান নিজেদের উদ্যোগেই করা সম্ভব। বৃহত্তর ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধনের জন্য অন্য কারও পদক্ষেপের অপেক্ষায় না থেকেও সাধারণ নাগরিক এই কাজটি করতে পারেন।
পরের বার যখন শুনবেন, কোনও পরিবার হাসপাতালের বিল মেটাতে জমি বিক্রি করছে কিংবা বিপুল অঙ্কের টাকা ধার করতে বাধ্য হচ্ছে, তখন সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি বিনয়ের সঙ্গে একটি বাস্তব প্রশ্নও করতে পারেন।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে, তারা কি জানতেন—কোন কোন সুবিধা তাঁদের ইতিমধ্যেই প্রাপ্য ছিল?
সূত্র: কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) এবং বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (BCG) ভারতে স্বাস্থ্যবিমা সম্পর্কে সচেতনতা নিয়ে সমীক্ষা; ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা সংক্রান্ত সরকারি যোগ্যতা ও নাম নথিভুক্তির তথ্য; ভারতে পারিবারিক স্বাস্থ্যবিমার আওতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
