
নয়া দিল্লি: ট্রেনে চড়তে টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম সকলের জানা। টিকিট না থাকলে জরিমানাও দিতে হয়। কিন্তু এমন ট্রেনের কথা জানেন যেখানে কোনও টিকিট লাগে না? টিকিট না থাকলে কোনও জরিমানাও করা হবে না। এই ভারতেই চলে সেই ট্রেন। কোন রুটে চলে এই ট্রেন, জানেন?
এই ট্রেনটি চলে পঞ্জাব থেকে হিমাচল প্রদেশে। পঞ্জাবের নাঙ্গাল থেকে হিমাচল প্রদেশের ভাখরা অবধি চলে এই ট্রেন। মোট ১৩ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এই ট্রেন। সময় লাগে আনুমানিক ৪০ মিনিট। এই ট্রেনের যাত্রাপথও কিন্তু অসামান্য সুন্দর। শিবালিক পর্বত ও সতলুজ নদীর পাশ দিয়ে যায় এই ট্রেন। মোট তিনটি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে যায়। ছয়টি ছোট্ট স্টেশনে দাঁড়ায়। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে এই ট্রেন চলে।
এই ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। যখন ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ তৈরি হচ্ছিল, সেই সময় এই রেলপথ চালু করা হয়েছিল। সাধারণ যাত্রীদের জন্য নয়, মূলত কর্মী, ইঞ্জিনিয়ার, ভারী সরঞ্জাম ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার জন্য এই ট্রেন চালানো হত।
বাঁধ তৈরি হয়ে যাওয়ার পরও এই ট্রেন লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। বরং দুই রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। মূলত আশেপাশের এলাকায় বসবাসকারীদের এই ট্রেনের কারণে নিত্যদিনের যাতায়াতে সুবিধা হয়।
এই ট্রেন কিন্তু ভারতীয় রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত হয় না। বরং ভাকরা বিয়াস ম্যানেজমেন্ট বোর্ডই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। যেহেতু শুরুর সময়ে কোনও ভাড়া নেওয়া হত না, সেই নিয়মই চালু রাখা হয়েছে এখনও। ভাকরা বোর্ডকেই এই ট্রেন চালানোর যাবতীয় খরচ বহন করতে হয়। ২০১১ সালে টিকিট সিস্টেম চালু করার ভাবনা চিন্তা করলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখনও বিনামূল্যে এই ট্রেনে যাতায়াত করা যায়।
শুধুমাত্র নিখরচার ট্রেন বলেই নয়, এই ট্রেনের আরও একটি ঐতিহ্য রয়েছে। এই ট্রেনের কামরাগুলি কাঠের। ১৯২৩ সালে পাকিস্তানের করাচীতে তৈরি হয়েছিল। যদিও সেই সময়ে তা অবিভক্ত ভারতেরই অংশ ছিল। প্রথমে কয়লা চালিত স্টিম ইঞ্জিনে চলত। পরে তাতে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়।