‘নাকখত দিতে দিতে ছাদে নিয়ে যায়, তারপরই ধাক্কা ভাইকে!’ দাদা-বৌদির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পাড়ার লোকজন
Dumdum: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপট্টি দুর্গাবতী কলোনির বহুতল আবাসন সোমবার ঘটনাটি ঘটে।
কলকাতা: ভয়ঙ্কর অভিযোগ খাস কলকাতায়! সম্পত্তির জন্য ছোট ভাইকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দাদার বিরুদ্ধে। একই অভিযোগে অভিযুক্ত বৌদি ও বৌদির মা। ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুভম চক্রবর্তী নামে গুরুতর জখম ওই কিশোর। দমদমের এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পাড়ার লোকজন।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপট্টি দুর্গাবতী কলোনির বহুতল আবাসন সোমবার ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ ওঠে, বছর সতেরোর শুভমকে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় তাঁর দাদা, বৌদি ও শাশুড়ি। এই ঘটনায় হইচই পড়ে যায় পাড়ায়। ততক্ষণে থানাতেও খবর দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আগে ভাগেই তিন অভিযুক্তকে আটক করে নেয়। যদিও পরে গ্রেফতার করা হয় তিনজনকেই।
স্থানীয়রা জানান, দমদমে দু’টি বড় ফ্ল্যাট রয়েছে শুভমদের। দাদা, বৌদির সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে থাকে শুভম। শুভমের বাবা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এরপর তাঁকে হোমে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। বড় ছেলে বাবার চিকিৎসার খরচও দেন না বলেই অভিযোগ। উল্টে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আরও অভিযোগ, বউদির চক্ষুশূল এই ছোট দেওরটি। কোনও ভাবেই তাঁকে সংসারে মেনে নিতে পারেন না তিনি। সময় সুযোগ পেলেই ব্যবহারে তা বুঝিয়েও দেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “শুভমের দাদা বউদি সবসময় ওর উপর অত্যাচার করে। সম্পত্তির জন্য সবসময় ছেলেটাকে মারধর করে। রবিবার রাতেও মেরেছে। সোমবার সকালে ছেলেটাকে নাকখত দিতে দিতে নিয়ে গিয়েছে ছাদে। সেখানে ধাক্কা মেরেছে। পাঁচিলে লেগে নিচে পড়ে গিয়েছে। চার তলার উপর থেকে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঝুপ করে আওয়াজ শুনে আমরা ছুটে আসি। এদিকে আমাদের কাছে সবটা আড়াল করে ছেলেটাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিল। ওর দাদা বলছিল আরজি কর যাচ্ছি। পরে আমরা জানতে পারলাম সাতগাছির একটা গলিতে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটা প্রায় আধ মরা তখন। জানি না ছেলেটার কী হবে! তবে ওর দাদা, বউদি, বউদির মা-বাবার আমরা শাস্তি চাই।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৬ বছর ধরে শুভমের বাবাকে মানসিক হাসপাতালে ফেলে রেখেছেন তাঁর দাদা। বাবা যেহেতু বড় ছেলেকে পছন্দ করেন না তাই বাবাকে আর আনেও না। বাবা সুস্থ এখন। তবু ছেলে আনেন না, পাছে সম্পত্তি নিয়ে ভাগাভাগি হয়। শুভমদের পরিবার সূত্রে পরিচিত সত্যব্রত সাঁতরা জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারকে চিনি। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ছোট ভাইকে বড় ভাই ও তাঁর পরিবার অত্যাচার করে। বড় ভাই কল্যাণ ও তাঁর বউ খুবই খারাপ ব্যবহার করে ছোট ছেলেটার সঙ্গে। কল্যাণের বিয়ের পর থেকেই এই ঘটনা। খুব ভাল পরিবার ছিল। যে হোমে ওর বাবা রয়েছে, সেখানেও কথা বলেছি। ওরা বলেছে, ভদ্রলোক সম্পূর্ণ সুস্থ। বড় ছেলে নিয়ে যেতে চায় না। ”
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দমদম থানায় পুলিশ দাদা কল্যাণ চক্রবর্তী, বৌদি প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী ও বৌদির মা উমা সরকারকে গ্রেফতার করে। দমদম থানার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের ব্যারাকপুর আদালতে পেশ তোলা হবে। আরও পড়ুন: কলকাতা মেট্রোর নন-এসি রেকগুলিকে এবার ‘ফেয়ারওয়েল’ দেওয়ার পালা, তবু স্মৃতিতে থেকে যাবে আজীবন