কথা রাখলেন মমতা, বন্যপ্রাণীর হানায় মৃতদের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়া শুরু করল রাজ্য

কথা রাখলেন মমতা, বন্যপ্রাণীর হানায় মৃতদের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়া শুরু করল রাজ্য

TV9 বাংলা ডিজিটাল: বন্যপ্রাণীদের হানায় যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। মাসখানেক আগেই নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিফলে যায়নি ঘোষণা। কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার থেকে মৃতদের পরিবারের এক সদস্যকে রাজ্য পুলিসের (West Bengal Police) হোমগার্ড পদে নিয়োগ করতে শুরু করেছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৩৪ জনকে চাকরি দেওয়া হবে।

বন দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যে গত পাঁচ বছরে (২০১৫-২০২০) বন্যপ্রাণীরর হানায় মৃত্যু হয়েছে ৫৮৪ জনের। এদের মধ্যে থেকেই ৪৩৪ জনকে প্রথম পর্যায়ে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের নিয়োগের প্রক্রিয়াও শীঘ্রই শুরু হবে বলে খবর নবান্ন সূত্রে। তবে বিধানসভা ভোট বাকি থাকার মাসছয়েক পূর্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এতে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখতে পাচ্ছে বিরোধী মহল।

বন্যপ্রাণীদের হানায় মৃত্যু যত ঘটনা ঘটে, তারমধ্যে হাতির হানায় বেশিভাগটাই জঙ্গলমহলে। বাকিটা উত্তরবঙ্গে। এ বাদে সুন্দরবনে বাঘের হানায় কদাচিৎ মৃত্যু হয় মৎস্যজীবীদের। শেষ পাঁচ বছরে মোট মৃত্যুর ৫৫ শতাংশই জঙ্গলমহলে হাতির হানায় হয়েছে। বাকি ৪৫-এর মধ্যে ৪০ শতাংশই উত্তরবঙ্গে। ঘটনাচক্রে, গত লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকাগুলোয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিরাট ধাক্কা খেয়েছিল। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে বিধানসভা ভোটের আগে কিছুটা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

আরও পড়ুন: ‘ভলিয়্যুম’ কমে গিয়েছে কেষ্টর, এবার স্পিকারটাও বন্ধ হবে’ অনুব্রতকে পাল্টা দিলীপ

প্রাথমিক পর্যায়ে জলপাইগুড়ি জেলার ৯৬, আলিপুরদুয়ারের ৭৩, দার্জিলিংয়ের ২৬, কালিম্পংয়ের ৮ এবং কোচবিহারের ২ জন চাকরি পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ থেকে। দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার ৬২, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৭ এবং ঝাড়গ্রামের ৪৬ জন হোমগার্ডের পদে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে সূত্র মারফৎ।