কলকাতা: শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে পোস্টার। সেইসব পোস্টারে লেখা ছিল, ‘ব্রাত্য বসু ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে গাড়ি চাপা দিয়ে পলাতক। সন্ধান পেলে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে খবর দিন।’ আর এই পোস্টার নিয়ে এবার সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সাধারণ সম্পাদক পলাশ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করল লেকটাউন থানার পুলিশ। মঙ্গলবার পলাশ দাসকে প্রায় ৪৫ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভা ঘিরে গত ১ মার্চ উত্তপ্ত হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির তলায় পড়ে এক পড়ুয়া আহত হন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে গত ৭ মার্চ শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির অদূরে কালিন্দী এলাকায় একাধিক পোস্টার দেখা যায়। সেইসব পোস্টারে লেখা ছিল, ‘ব্রাত্য বসু ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে গাড়ি চাপা দিয়ে পলাতক। সন্ধান পেলে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে খবর দিন।’
এসএফআইয়ের তরফে এইসব পোস্টার দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেইসব পোস্টার নিয়ে শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায় নামে কালিন্দী এলাকার এক বাসিন্দা লেকটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সেখানে তিনজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ। এরপরই লেকটাউন থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা সিপিআইএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি পলাশ দাসকে নোটিস পাঠিয়ে ডেকে পাঠান।
এদিন সন্ধে ছটার কিছু পরে পলাশ দাস লেকটাউন থানায় আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিএমের গার্গী চট্টোপাধ্যায়, মানস মুখোপাধ্যায়, গৌতম দেবের পুত্র সপ্তর্ষি দেব-সহ অন্য়রা। প্রায় ৪৫ মিনিট তদন্তকারী আধিকারিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন পলাশ দাসকে। তারপর সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সাধারণ সম্পাদক বেরিয়ে যান। জানা গিয়েছে, যে তিনজনকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের চেনেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয় সিপিএম এই নেতার কাছে। এর আগে যাদবপুরকাণ্ডে যাদবপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সৃজন ভট্টাচার্যকে।