
দীপঙ্কর দাস ও কৌশিক ঘোষের রিপোর্ট
মুর্শিদাবাদ ও বারাসত: পুজোর মুখে চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি (West Bengal Dengue)। পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। এবার পুরসভা ও পঞ্চায়েতের সঙ্গে পুজো কমিটিগুলোকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সব পুরসভা ও জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলেছে স্বাস্থ্য দফতর।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কাজলকৃষ্ণ বণিক বলেন, “প্যান্ডেল সাজানোর কাজে যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যথাসম্ভব দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। জঞ্জাল অপসারণ করুন। কেন না অসংখ্য দর্শনার্থী আপনাদের পুজো মণ্ডপগুলিতে আসবেন। সেখানে কিছুক্ষণ তাঁরা বসবেন। সেখানেও কিন্তু মশা কামড়াতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এগুলো যে নিয়মিত সরিয়ে নেবে বা জঞ্জাল অপসারণের সঙ্গে যুক্ত যাঁরা, তাঁদেরও ঘাটতি আছে। বা থাকলেও তাঁরা কাজ করছেন কি করছেন না কেউ জানে না। কেননা বাস্তবে পৌর প্রশাসন, পঞ্চায়েত প্রশাসন নেই। গত এক মাসে যেভাবে বাড়ার সংখ্যা দেখছি আমরা, তাতে যদি টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়ে, তাহলে অনেক বেশি পজিটিভ কেস পাওয়া যাবে।”
সূত্রের খবর, চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গিতে মৃত ১৪ জন। তার মধ্যে অক্টোবরে মৃত্যু দুইজনের। অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ১৭৭। উত্তর ২৪ পরগনায় ডেঙ্গির প্রকোপ সবথেকে বেশি বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্কিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮৯ জন। তবে, গত তিন সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩১। এই পরিসংখ্যানই চিন্তা বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের। বিধাননগর, বাগদা, বনগাঁ, দেগঙ্গাতে প্রকোপ বেশি।
ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি মুর্শিদাবাদেও। পরিসংখ্যান বলছে,জেলায় ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। চলতি বছরে মোট আক্রান্ত ১৮০০ ছাড়াল এই জেলায় । উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮০০ জন।
স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, বর্ষার পর জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধির কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় বিশেষ সাফাই অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। জমা জল পরিষ্কার এবং মশা মারার তেল স্প্রে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক। জ্বর হলে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে।