Harbhajan Singh : আইপিএলের হিন্দি কমেন্টেটরদের নিয়ে মিম সমাজমাধ্যমে, বিতর্কিত মন্তব্য ভাজ্জির!
ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলের প্রথম ম্যাচে। আরসিবি ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে হওয়া এই ম্যাচে ইংলিশ কমেন্ট্রি প্যানেলে কমেন্ট্রি করছিলেন ইয়ান বিশপ। তিনি হায়দরাবাদের ক্রিকেটার অনিকেত ভার্মা সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য দিচ্ছিলেন, যেগুলি নিয়ে সচরাচর আলোচনা হয় না। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই রিসার্চ করেনি হিন্দি কমেন্ট্রি প্যানেল?

কলকাতা : যতদিন তিনি খেলেছেন, ততদিন বিতর্ক ছিল তাঁর সঙ্গী। আইপিএলে শ্রীসন্থকে চড় মারা থেকে কমেন্ট্রিতে বিতর্কিত মন্তব্য, বারবার চর্চায় ছিলেন হরভজন সিং। এমনকি ২০০১ সালে কলকাতায় তাঁর ঘূর্ণির সামনেই অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়া। হ্যাটট্রিক করেছিলেন সেই ম্যাচে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে ভাজ্জি। এই আইপিএলে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করছেন হরভজন। তবে প্রথম ম্যাচের পরেই তাঁকে নিয়ে তৈরী হয়েছে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া ট্রোলের জবাব দিয়ে আরও বিপাকে এই প্রাক্তন ডানহাতি অফ-স্পিনার।
ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলের প্রথম ম্যাচে। আরসিবি ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে হওয়া এই ম্যাচে ইংলিশ কমেন্ট্রি প্যানেলে কমেন্ট্রি করছিলেন ইয়ান বিশপ। তিনি হায়দরাবাদের ক্রিকেটার অনিকেত ভার্মা সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য দিচ্ছিলেন, যেগুলি নিয়ে সচরাচর আলোচনা হয় না। ‘ঝাঁসি কা রাজকুমার’ নামে পরিচিত এই ক্রিকেটার মাত্র ৩ বছর বয়সে নিজের মা-কে হারিয়েছিলেন। তাঁর কাকা অমিত ভার্মা ৩০০০ টাকা মাসিক আয়ের পরেও অধিকাংশ অর্থই ব্যয় করতেন অনিকেতের ক্রিকেট কেরিয়ারের জন্য। কিন্তু তাঁর কেরিয়ার ঘুরে যায় ২০২৪ সালে।
দুই বছর আগে মধ্যপ্রদেশ প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন অনিকেত। ১৩টি ছক্কা মেরেছিলেন সেই ইনিংসে। এরপরেই তাঁকে নিয়ে হইচই পড়ে যায়। গত আইপিএলের নিলামে বেস প্রাইস ৩০ লক্ষ টাকায় তাঁকে কিনে নিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কিন্তু তিনি কোথাও কোনও সাক্ষাৎকার দিতে চাননি। বলেছিলেন, তাঁর ব্যাটই তাঁর হয়ে কথা বলবে। আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই আরসিবির বিরুদ্ধে তিনি করেছিলেন ১৮ বলে ৪৩ রান। তাঁর এই ক্রিকেটযাত্রার কথা নিজের কমেন্ট্রির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন ইয়ান বিশপ। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই রিসার্চ করেনি হিন্দি কমেন্ট্রি প্যানেল? কেন হিন্দি কমেন্ট্রির প্যানেলিস্টরা শুধু কবিতা শোনান ও নিজেদের কেরিয়ারের এই গ্রাফচিত্রকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেন? এই নিয়েই প্রশ্নও তুলতে শুরু করেন সমর্থকরা।
এরপরেই এক্স হ্যান্ডলে একজন হরভজন, সহবাগ ও আকাশ চোপড়ার ছবি দিয়ে পোস্ট করে লেখেন, তিনজনই জোকার। সেই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। প্রত্যুত্তরে ভাজ্জি লেখেন,”এদের মধ্যেই একজনকে বাবা বেছে নে।” ভাজ্জির এই কমেন্ট মুহূর্তে ছড়িয়ে পরে। অনেকে বলতে শুরু করেন, ট্রোলিংয়ের একদম উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ভাজ্জি। এছাড়া আরও মিম বানানো হয়েছে তাঁদের নিয়ে। একজন মিম বানিয়ে লেখেন,”ভাজ্জি, সিধু ও সেহওয়াগ এর থেকে অনেক ভাল বিশ্লেষণ করেন ইয়ান বিশপ।” এর উত্তরে ভাজ্জি বলেন,”হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোঁকে হাজার।” এরপরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। এমনকি অনেক কে কুকুরের সঙ্গেও তুলনা করেন ভাজ্জি।
ইয়ান বিশপ বনাম হিন্দি কমেন্ট্রি বিতর্ক চলতেই থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় একের পর এক উত্তর, প্রত্যুত্তর। এর আগে ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বোলার জোফ্রা আর্চারকে কমেন্ট্রিতে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছিলেন ভাজ্জি। পরের বছর আবার এই বিতর্ক। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, রিপ্লাই না দিয়ে নিজেদের কাজ মন দিয়ে করা উচিত ভাজ্জিদের।
