
কলকাতা: ইন্সটা পোস্ট দেখেই মনে হচ্ছে তিনি উদ্বিগ্ন। শোকে কাতর। এবং এখান থেকে পরিত্রাণের রাস্তা খুঁজছেন। যে রাস্তা খুঁজছে সারা দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। আরজি কর ইস্যু বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সারা দেশে। প্রশ্ন উঠে গিয়েছে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে। প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই, কর্মক্ষেত্রে কি নিরাপদ নন মেয়েরা? আরজি কর কাণ্ডের পর বিক্ষোভে নেমেছেন চিকিৎসকরা। এই আন্দোলন জনমানসে এতটাই সাড়া ফেলেছে যে, রাত দখলের জন্য রাস্তায় নেমেছেন মেয়েরা। কলকাতার সঙ্গে তাঁর যোগ বড় নিবিড়। কলকাতা নাইট রাইডার্সের তিনি ক্যাপ্টেন। আর যিনি কলকাতার মুখ, তিনি শুধু মাঠে আটকে থাকবেন, হয় নাকি! শ্রেয়স আইয়ার ক্রিকেটের বেড়া ভেঙে বেরিয়ে এলেন। শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) ভেঙে দিতে চাইছেন দীর্ঘদিনের বেনিয়ম। শুধু কলকাতার নয়, সারা ভারতের মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে পড়লেন কেকেআর (KKR) ক্যাপ্টেন।
যন্ত্রণাবিদ্ধ শ্রেয়স ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে লিখলেন, ‘এই ক’বছরে কিছুই বদলায়নি! যা ঘটেছে, শোনার পর থেকে আমি আক্ষরিক অর্থে বিধ্বস্ত।’ কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গভীর রাষ্ট্রীয় সমস্যা বা সেই রকম কিছু ঘটলে সমাজের সর্বস্তর থেকে সমান প্রতিক্রিয়া মেলে। আরজি কর দুর্ঘটনা তেমনই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে মনে হচ্ছে। যাঁরা মনে করছেন, তাঁরা সব অর্থে ঠিক মনে করছেন। এই ঘটনার সার্বিক নিন্দা যেমন দরকার, তেমনই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই প্রার্থনা দেশজুড়ে চলছে। সেই প্রার্থনায় সামিল হলেন শ্রেয়স আইয়ার।
কেকেআরের ক্যাপ্টেন লিখেছেন, ‘যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে কিংবা যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে, তাদের কড়া শাস্তি দরকার। উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’ এতেই শেষ নয়, তিনি একইসঙ্গে লিখেছেন, ‘জাস্টিস ফর উইমেন।’
এক চিকিৎসকের স্বপ্ন ছিল মানুষের সেবা করবেন। নির্মম ভাবে মৃত্যু হল তাঁরই। এই যন্ত্রণা যে শ্রেয়সকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে, ইন্সটা পোস্টেই মিলছে তার প্রমাণ।