AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

চলে গেলেন এশিয়াডে সোনা জয়ী ‘ভীম’

২০ বছর বয়সে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সে যোগ দেন প্রবীণ। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০। বিএসএফের হয়েই খেলায় নিজের প্রতিভা মেলে ধরেছিলেন। বিএসএফের অফিসাররা তাঁকে আরও এগিয়ে দেন। জাতীয় স্তরে ডিসকাসে পর পর সাফল্যের পর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ছয় ও সাতের দশকে রীতিমতো সাড়া ফেলা অ্যাথলিট ছিলেন। দুরন্ত সাফল্য তাঁর জনপ্রিয়তাও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

চলে গেলেন এশিয়াডে সোনা জয়ী 'ভীম'
প্রবীন কুমার ভীম। ছবি: টুইটার
| Edited By: | Updated on: Feb 08, 2022 | 8:21 PM
Share

নয়াদিল্লি: ছয় ও সাতের দশকে ভারতীয় খেলাধুলোয় অন্যতম বড় নাম ছিলেন তিনি। ডিসকাস (Discus Throw) এবং হ্যামার থ্রো-তে পঞ্জাবি তরুণকে রোখা ছিল কঠিন। সাড়ে ছ’ফুট লম্বা, বিশাল চেহারার এই অ্যাথলিট (Athlete) ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের এশিয়ান গেমসে ডিসকাস থ্রোতে দুটো সোনা জিতেছিলেন। ১৯৬৬ সালে ব্যাঙ্কক এশিয়াডে হ্যামার থ্রোতে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ১৯৭৪ সালে তেহরান এশিয়ান গেমসে আবার ডিসকাসে রুপো ছিল ঝুলিতে। ৫৬.৭৬ মিটার ডিসকাস থ্রোয়ের রেকর্ড এখনও অটুট। শুধু তাই নয়, ১৯৬৮ ও ১৯৭২ সালের অলিম্পিকেও (Olympics) নেমেছিলেন দেশের হয়ে। সেই প্রবীণ কুমার সোবতি মারা গেলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। কিন্তু প্রাক্তন অ্যাথলিট বললে হয়তো অনেকেই চিনতে পারবেন না তাঁকে। প্রবীণ কুমারকে চিনতে হলে ফিরে যেতে নয়ের দশকে। টিভি খুললেই দেখা যেত তাঁকে। মহাভারতের ‘ভীম’ হিসেবে।

সোমবার দুপুরে মারা যাওয়া প্রবীণ ছিলেন বর্ণময় চরিত্র। খেলার জগতে প্রভাব বিস্তার করার আগেই যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। সেখান থেকে আবার সিনেমার জগতে পা দেওয়া। এশিয়ান গেমসে ৪টে পদক জেতা প্রবীণ ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন বেশ কিছুদিন। সোমবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে ডাক্তার ডাকা হয়। ততক্ষণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। রেখে গেলেন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে।

২০ বছর বয়সে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সে যোগ দেন প্রবীণ। বিএসএফের হয়েই খেলায় নিজের প্রতিভা মেলে ধরেছিলেন। বিএসএফের অফিসাররা তাঁকে আরও এগিয়ে দেন। জাতীয় স্তরে ডিসকাসে পর পর সাফল্যের পর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ছয় ও সাতের দশকে রীতিমতো সাড়া ফেলা অ্যাথলিট ছিলেন। দুরন্ত সাফল্য তাঁর জনপ্রিয়তাও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

১৯৮১ সালে ‘রক্ষা’ সিনেমায় প্রথম দেখা যায় প্রবীণকে। জেমস বন্ডের ধাঁচের সিনেমার নায়ক ছিলেন জিতেন্দ্র। তাঁর চরিত্র অনেকটা বন্ডের বিখ্যাত সিনেমা ‘দ্য স্পাই হু লাভড মি’র ভিলেন ‘জস’এর মতো ছিল। ওই বছরই জিতেন্দ্রর সঙ্গে করেছিলেন ‘মেরি আওয়াজ শুনো’। তবে ভীম চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল— এই দু’বছর তিনি মহাভারতে অভিনয় করেন। ভীম চরিত্রই ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল প্রবীণকে। গত বছর লকডাউনের সময় আবার মহাভারত ফিরেছিল বিভিন্ন চ্যানেলে। তা জনপ্রিয়ও হয়েছিল। আর এক টিভি সিরিয়াল চাচা চৌধুরিতে ‘সাবু’র ভূমিকায় অভিনয় করেন। শুধু তাই নয়, ১৯৮৭ সালে অমিতাভ বচ্চন অভিনীত সুপারহিট সিনেমা ‘শাহেনশাহ’তেও অভিনয় করেছিলেন। কেরিয়ার জুড়ে ৫০-রও বেশি সিনেমা করেছেন।

সিনেমার জগত তাঁকে অনেক কিছু দিলেও খেলাধুলোই চিরকালীন প্রেম ছিল প্রবীণের। সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার পর রাজনীতিতেও এসেছিলেন। ২০১৩ সালে আম আদমি পার্টিতে যোগ দেন। পরের বছর আবার সেখান থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রবীণ অবশ্য চিরকাল মনে থাকবেন ভীম হিসেবেই।

আরও পড়ুন: ৪০০ মিলিয়ন ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ার, সিআর সেভেনের নয়া রেকর্ড!!!

Follow Us