Bankura Vote Boycott: হাজার আবেদনেও ফেরেনি রাস্তার হাল, পাইপ বসলেও মেলেনি জল, প্রতিবাদে একত্রে ভোট বয়কটের পথে চার চারটি গ্রাম
Poor Roads and Drinking Water Crisis: বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ বিধানসভা একসময় ছিল এ রাজ্যের মাওবাদীদের অন্যতম আঁতুড়ঘর। ২০১১ সালের নির্বাচনেও এই বিধানসভা কেন্দ্রটি ধরে রেখেছিল বামেরা। তবে ২০১৬ থেকে টানা দু’বার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয় তৃণমূল। এই কেন্দ্র থেকে জিতে ২০২১ সালে রাজ্যের মন্ত্রীও হন তৃণমূলের জ্যোৎস্না মাণ্ডি।

বাঁকুড়া: প্রায় এক দশক আগে কাঁচা সড়ক পাকা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রাস্তার অবস্থা এখন চূড়ান্ত বেহাল। গ্রামে পাইপ লাইন বসলেও মেলেনি এক ফোঁটা পানীয় জল। প্রতিবাদে বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের চারটি গ্রামের মানুষ একত্রে ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে নামলেন রাস্তায়। ভোটের মুখে শোরগোল রাজনৈতিক আঙিনায়।
বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ বিধানসভা একসময় ছিল এ রাজ্যের মাওবাদীদের অন্যতম আঁতুড়ঘর। ২০১১ সালের নির্বাচনেও এই বিধানসভা কেন্দ্রটি ধরে রেখেছিল বামেরা। তবে ২০১৬ থেকে টানা দু’বার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয় তৃণমূল। এই কেন্দ্র থেকে জিতে ২০২১ সালে রাজ্যের মন্ত্রীও হন তৃণমূলের জ্যোৎস্না মাণ্ডি। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারপরেও এই কেন্দ্রে বঞ্চনার ছবি বদলায়নি। একের পর এক গ্রামে কোথাও রাস্তা আবার কোথাও পানীয় জলের দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। এবার সেই ধারাবাহিকতায় নবতম সংযোজন। রানিবাঁধ বিধানসভার চালসা, ডুমুরডাঙ্গা, জভি ও বাগদিয়া এই চারটি গ্রামের মানুষ একত্রে ডাক দিলেন ভোট বয়কটের।
ওই চারটি গ্রামের মানুষের দাবি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর চালসা মোড় থেকে ডুমুরডাঙ্গা ও জভি হয়ে বাগদিয়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রাস্তা পুরোপুরি বেহাল হয়ে পড়ে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে বর্ষায় সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব! ভাড়া গাড়ি থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স, কেউই গ্রামগুলিতে যেতে চায় না। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বারংবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দরবার করেও লাভ হয়নি। অন্যদিকে বছর দুয়েক আগে গ্রামে পাইপ লাইন বসলেও নলবাহিত পানীয় জল আজও পৌঁছায়নি গ্রামগুলিতে। একদিকে রাস্তার বেহাল দশা আর অন্যদিকে পানীয় জলের চূড়ান্ত হাহাকার মেটানোর দাবিতে এবার ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে বসলেন ওই চারটি গ্রামের মানুষ। ভোটের মুখে যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
যদিও রানিবাঁধের বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু বলছেন, ভোট বয়কট সমাধান নয়। বিজেপিকে ভোট দিয়ে জেতালে আগামীদিনে বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় গ্রামবাসীদের সমস্যা সমাধান করবেন। চুপ করে নেই তৃণমূলও। রানিবাঁধের তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদা বলছেন, ভোট বয়কট করলে গ্রামবাসীদেরই ক্ষতি। ভোট পেরোনোর পরই ওই কাজ শুরু হবে।
