Crime: ছেলে না হওয়ায় ১৬ দিনের মেয়েকে খুন বাবার, ধৃতকে ২ সপ্তাহ জেল হেফাজতের নির্দেশ

Murder: বাঁকুড়া পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েকে কীভাবে এবং কেন খুন করেছেন আশ্বিনাথ তা জেরায় স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। ধৃতকে সঙ্গে নিয়েই সদ্য়োজাতের মৃতদেহ আবিষ্কারও সম্ভব হয়েছে।

Crime: ছেলে না হওয়ায় ১৬ দিনের মেয়েকে খুন বাবার, ধৃতকে ২ সপ্তাহ জেল হেফাজতের নির্দেশ
ধৃত আশ্বিনাথ সোরেন, নিজস্ব চিত্র

বাঁকুড়া: ১৬ দিনের মেয়েকে খুন (Murder) করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আশ্বিনাথ সোরেনকে  ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল বাঁকুড়া জেলা আদালত। চার দিনের জন্য পুলিশের হেফাজতে ছিলেন আশ্বিনাথ। শুক্রবার সেই হেফাজত শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু, তার আগেই  বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। বিচারক অভিযুক্তকে দুই সপ্তাহের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

বাঁকুড়া পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েকে কীভাবে এবং কেন খুন (Murder) করেছেন আশ্বিনাথ তা জেরায় স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। ধৃতকে সঙ্গে নিয়েই সদ্য়োজাতের মৃতদেহ আবিষ্কারও সম্ভব হয়েছে। এই অবস্থায় অভিযুক্তকে আর পুলিশি হেফাজতে রাখার দরকার নেই বলেই জানিয়েছে আদালত। সেই মোতাবেক বৃহস্পতিবারই জেল আশ্বিনাথকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, পর পর দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ায় খুশি ছিল আশ্বিনাথ সোরেন। এদিকে ছোট মেয়েকে হঠাৎ খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ হয় মায়ের। এর পর তাঁর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছিল ছাতনা থানার পুলিশ। তার পর ধানজমি থেকে পাওয়া যায় শিশুর মরদেহ। অভিযোগ, তার বাবাই তাকে খুন করে দেহ লোপাটের জন্য লুকিয়ে রাখে ধানজমিতে। লক্ষ্মীপুজোর রাতেই গ্রেফতার হন আশ্বিনাথ।

জানা গিয়েছে, তুলসা গ্রামের বাসিন্দা আশ্বিনাথ সোরেন ও সোহাগী সোরেনের কন্যাসন্তানের জন্ম হয় মাত্র ১৬ দিন আগে। তাঁদের আরও একটি মেয়ে রয়েছে। আশ্বিনাথ চেয়েছিলেন তাঁদের ছেলে হবে এবার। কিন্তু এমনটা না হওয়ায় রাগে ফুঁসছিলেন তিনি।

এর পর গত সোমবার বাড়িতে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে যখন মা সোহাগী বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন সে সময় আচমকাই ১৬ দিনের ওই কন্যা সন্তান নিখোঁজ হয়ে যায়। কোথাও খুঁজে পায় যায়নি তাকে। কান্নাকাটি সোহাগী দেবী ছাতনা থানায় হাজির হন কন্যাসন্তানের নিখোঁজ ডায়েরি করতে। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথম থেকেই পুলিশের সন্দেহ হয় নিখোঁজ হওয়া কন্যাসন্তানের বাবা আশ্বিনাথ সোরেনকে।

এর পর মঙ্গলবার ছাতনা থানার পুলিশ আশ্বিনাথ সোরেনকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রথমে কিছু বলতে না চাইলেও পরে ভেঙে পড়েন আশ্বিনাথ। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি স্বীকার করেন পরপর দুটি কন্যাসন্তান হওয়ায় না-খুশ ছিলেন। তাই দ্বিতীয় কন্যাসন্তানকে প্রথমে কুয়োতে ফেলে দেন আশ্বিনাথ। তার পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহটি প্লাস্টিকে মুড়ে গ্রাম থেকে ২ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে একটা ধানজমিতে পুঁতে ফেলেন। আশ্বিনাথের এই স্বীকারোক্তিতে কার্যত চমকে যান পুলিশ অফিসাররা। তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা হয় সেই মরদেহ। এর পর ছাতনা থানার পুলিশ বাবাকে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, গতকালই শহর কলকাতা থেকে উঠে এসেছে আরেক চাঞ্চল্যকর খবর। নিজের একদিনের কন্যাসন্তানকে হাসপাতালেই বালিশ চাপা দিয়ে মেরে দেয় মা। কলকাতার একবালপুরের এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে ওই মাকে। এখন হাসপাতালেই পুলিশি নজরদারিতে আছে সে।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: উত্তরবঙ্গ সফর শেষেই গোয়ায় পাড়ি মুখ্যমন্ত্রীর, সাগরপারে ঘর গোছাতে ব্যস্ত তৃণমূল

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla