
ওয়াশিংটন: শ্রামসবার্গ ব্ল্যাঙ্ক সি নোয়ার। সুরাপ্রেমীরারা ডাকেন মিস মেরিলিন। মেরিলিন মনরোর আবেদন, মাদকতার সঙ্গে নাকি শুধু শ্রামসবার্গ ব্যাঙ্ক সি নোয়ারের-ই তুলনা হয়। ১৯৭২ সালে হোয়াইট হাউসের ওয়াইন ভল্ট থেকে বেরিয়েছিল শ্রামসবার্গের বোতল। হোয়াইট হাউসে চিনা প্রেসিডেন্ট চৌ এন লাইয়ের সম্মানে রিচার্ড নিক্সনের ডিনার। ডিনারের আগে টোস্ট। মানে ডিনারের আগে কয়েক চুমুকে একটু গলা ভিজিয়ে নেওয়া। শ্রামসবার্গ স্প্রার্কলিং ওয়াইন। আর ট্যামন্ড চিজ দিয়ে টোস্ট করেছিলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। ওয়াইনটা কেমন লাগছে? নিক্সনের প্রশ্নে এক কথায় উত্তর দেন চৌ এন লাই। হেভেনলি।
৫৪ বছর পর আর এক স্পেশাল চিনা গেস্টের জন্য সেরা জিনিসটাই ভল্ট বের করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংয়ের সম্মানে ডিনার শুরু হল শ্রামসবার্গ সি নোয়ার দিয়ে। স্টার্টারে প্যানকেক আর স্যুপ। মেন কোর্সে সামুদ্রিক মাছ, বেবি বক চয়। শেষ পাতে হোয়াইট হাউসের ইন-হাউস মধু দিয়ে তৈরি আইসক্রিম।
১১ বছর পর আমেরিকায় সরকারি সফরে গিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দুনিয়া। বিশেষত রুশ তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এই বৈঠকের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়। ট্রাম্প- শি বৈঠকে হলটা কী? প্রথমত, শুল্ক নিয়ে স্থিতাবস্থা। পরের বছর ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন করে শুল্ক না চাপানোর ব্যাপারে একমত দুই দেশ। দ্বিতীয়ত, থুকিডিডিস ফাঁদ এড়ানোর ব্যাপারে দুই দেশ একমত। থুকিডিসিস ফাঁদ মানে একটা দেশ ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে যখন এমন একটা জায়গায় পৌঁছে যায়, যখন দুনিয়ার বড় শক্তিগুলো তাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা শুরু করে। এর অর্থ খুব স্পষ্ট। আমেরিকা যেন কোনওভাবেই চিনকে থ্রেট হিসাবে না দেখে, সেই আশ্বাস অন্তত মুখে আদায় করে নিয়েছেন জিনপিং।
তৃতীয়ত, দক্ষিণ চিন সাগরে নিজের দাবি এবং তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন গ্যারান্টি। শি সেই দাবি করেছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে সম্মতি দিয়েছেন বলেই খবর। এটা যদি সত্যি হয়, তা হলে চিনের প্রতিবেশি দেশ বিশেষত তাইওয়ানের কাছে বড় ধাক্কা। চার নম্বরে, নিজেদের আইএ সংক্রান্ত তথ্য এবং গবেষণা নিয়ে অনড় অবস্থান থেকে কিছু সরেছেন শি জিনপিং।
চিনা প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দিয়েছেন, ২০২৮ সাল থেকে এআই মাধ্যমে তৈরি নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রকল্প নিয়ে তথ্য দেবে চিন। তবে সেই তথ্য কারা পাবে? শুধু আমেরিকা নাকি গোটা দুনিয়া? সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের বেশ কিছু এআই প্রকল্প নিয়ে দুনিয়া জুড়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন এবং ইউরোপীয় এআই সংস্থাগুলি মনে করছে, চিন বিপজ্জনক কিছু এআই টুল তৈরি করছে। তাই এই টুলগুলো নিয়ে ওরা কোনও তথ্য দিচ্ছে না। বেশ কয়েকটা এআই টুলের কথা কার্যত চেপে রেখেছে। এব্যাপারে বেশ কিছুদিন ধরেই চিনকে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। সেইজন্যই চিনের এই আশ্বাস নিজের জয় হিসাবেই দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।