Mamata Banerjee: ‘খালি হিংসা! দেখবে ঝুড়ি ভরে ১০০টা লাড্ডু নিয়ে যাচ্ছ, রাস্তায় সব পড়ে গেছে, ঝুড়ি ফাঁকা’, তোপ মমতার

Bhabanipur By-Election: 'এর আগে শিকাগোয় স্বামী বিবেকানন্দ যেখানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, সেখানেও আমার অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়', তোপ মমতার।

Mamata Banerjee: 'খালি হিংসা! দেখবে ঝুড়ি ভরে ১০০টা লাড্ডু নিয়ে যাচ্ছ, রাস্তায় সব পড়ে গেছে, ঝুড়ি ফাঁকা', তোপ মমতার
ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা: রোমে যেতে না পারলেও এখান থেকেই যা বলার বলবেন। রবিবার যদুবাবুর বাজারে ভোট (Bhowanipore By-Election) প্রচারে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এমনই বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, হিংসার কারণে এ ভাবে বিশ্ব শান্তির মঞ্চে তাঁর যাওয়া আটকানো হয়েছে।

এদিন মমতা বলেন, বাংলা সেই রাজ্যে যা বিশ্বের কাছে শান্তির নজির। তাই বাংলাকে শান্তি সম্মেলনে ডাকা হয়। মমতার কথায়, “বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে আমাকে ডাকলে যারা হিংসুটে তারা বলে যাওয়া যাবে না। ওটা নাকি ফিট নয়! তা কোনটা ফিট, আর কোনটা আনফিট? কে ঠিক করবে? আমার ভাল মন্দ আমি বুঝব না? তোমাদের বোঝাতে হবে? অনেক রাজ্যে আছে যারা কোনও অনুমতিই নেয় না। আমি নিই। কারণ, সৌজন্য-শৃঙ্খলা। আমি চাই আমার দেশের বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভাল থাকুক। কিন্তু এ ভাবে আটকানো কেন? বিশ্বশান্তির আরেক নাম ভ্রাতৃত্ববন্ধন, সম্প্রীতি। নাই যা যেতে পারলাম সেখানে। এখান থেকেই যা বলার বলব। একবার নয়, হাজার বার বলব। আমি মন থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ইতালির সরকার যে ভাবে আমাকে স্পেশাল পারমিশন করে দিয়েছিল যাওয়ার জন্য, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, ধন্যবাদ জানাই।”

এ প্রসঙ্গে মমতা অভিযোগ করেন, “এর আগে শিকাগোয় স্বামী বিবেকানন্দ যেখানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, সেখানেও আমার অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমার চিনে যাওয়ার কথা ছিল, আমি না ভারত সরকারের আয়োজন, শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। আমার কেমব্রিজে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল, এরা বন্ধ করে দিয়েছিল। সেন্ট স্টিফেন্স আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, এরা বন্ধ করে দিয়েছিল। ক’টা আর বন্ধ করবে? ক্ষমতায় আছো বলে আঙুল ফুলে কলা গাছ। আগামিদিন দেখবে ঝুড়ি ভরে ১০০টা লাড্ডু নিয়ে যাচ্ছ। ঝুড়ির ফাঁক দিয়ে সব লাড্ডু পড়ে যাবে। শুধু ঝুড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।”

একই সঙ্গে যে কেন্দ্রে তিনি ভোটে লড়ছেন সেই ভবানীপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বোঝাতে গিয়ে মমতা বলেন, “যখন কোভিডের সময় ভয়ে রাস্তায় কেউ বেরোয়নি, সেই সময়ও কিন্তু আমি একটার পর একটা এলাকা ঘুরে বেরিয়েছি। চেতলায় কত গরীব মানুষ আছে, রেড লাইন এরিয়া থেকে শুরু করে তাঁদের কাছেও আমি গিয়েছি। তাঁরা ঠিক মতো খাবার পাচ্ছেন কি না। ট্রান্সজেন্ডারদের কাছেও গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। কলকাতা পুলিশকে দিয়ে, শশী পাঁজাকে দিয়ে খোঁজ নিয়েছি।”

এরপরই প্রচারে ঝাঁঝ বাড়াতে শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী। মমতা বলেন, “গণতন্ত্রে ভোটদান মৌলিক অধিকার। যদি আপনি ভোটটা না দেন, যে কোনও দিন কেন্দ্রের জুমলা পার্টি সিএএ বা এনআরসির নাম করে আপনার নামটা কেটে দেবে।” এ প্রসঙ্গে আবারও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা। তাঁর সংযোজন, “কোনও কোনও দলকে চমকালেই চুপ করে যায়। এই কারণেই কংগ্রেস ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারা সিপিএমের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে। এখনও করে। বিজেপির সঙ্গেও করে। তবে আমরা লড়ব। আমরা কাউকে ভয় পাই না। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও না।”

শুধু কেন্দ্রই নয়, এদিনের প্রচারে মমতার নিশানায় ছিল ত্রিপুরার সরকারও। সে প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন আদালত কী করবে? আমার কাছে ভিডিয়োও এসেছে। কেউ চাইলে আমি দেব। মানহানির মামলা হতে পারে এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে। কোনও জাজমেন্ট নিয়ে আলোচনা হতেই পারে, কিন্তু তা বলে আদালত মানি না, আইন মানি না, এসব তো বলা যায় না। নিজেরা সভা করছে। এদিকে অভিষেক গেলেই আটকে দিচ্ছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এই ভবানীপুরই আগামিদিন দিল্লির ইতিহাসে বদল আনবে। তাই ভবানীপুরবাসীর কাছে তাঁর আবেদন, “আমরা চাই ভোটটা এবার দিন। ৪০-৫০% এর বেশি দেখি ভোট হয় না এখানে। এবার সকলে ভোট দিন। ভোট আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার। তা না দিলে দেখবেন কোনদিন সিএএ, এনআরসি করে আপনার নামটা কেন্দ্র সরকার বাদ দিয়ে দিয়েছে।”

আরও পড়ুন: New Digha: উপকূূলে আসন্ন ‘গুলাব’, নির্দেশ উপেক্ষা করে সমুদ্রস্নান, সলিলেই সমাধিস্থ ২!

 

Read Full Article

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla