Calcutta High Court on Chorbagan Stampede: নজরে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকাও! চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু নিয়ে এবার বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
Chorbagan Stampede Case: চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পরই জনস্বার্থ মামলা হয়। জরুরি ভিত্তিতে আজ, মঙ্গলবার জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

কলকাতা: ঠাকুর দেখতে গিয়ে চলে গেল তরতাজা প্রাণ। সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ১৯ জনের। চোরবাগানের এই ঘটনা নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিয়ে কমিশন গঠন করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, চোরবাগানের বিপর্যয়ে পুলিশের দক্ষতার অভাব ছিল। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত করবে কমিশন।
চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পরই জনস্বার্থ মামলা হয়। জরুরি ভিত্তিতে আজ, মঙ্গলবার জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। এদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে কর্মরত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠনের জন্য আর্জি জানানো হয়। তবে কলকাতা হাইকোর্টর প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানান, কর্মরত বিচারপতিকে কমিশনে নিযুক্ত করা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশিকা ও আদালতের বর্তমান বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কাজের চাপ ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখতে প্রধান বিচারপতি যদি বর্তমান কোনও বিচারপতিকে ছাড়তে অপারগ হন, তবে রাজ্য সরকার হাইকোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে এই কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে।
রাজ্যকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটির শীর্ষে কোন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি থাকবেন, তা নির্বাচনের সুযোগ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে তদন্ত কমিশন কী কী বিষয় খতিয়ে দেখবে, তার একটি দীর্ঘ তালিকা (যেমন—ঘটনাস্থলের প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ত্রুটি, পুলিশের ভূমিকা, আয়োজকদের দায়িত্বে অবহেলা, আবহাওয়া, সিসিটিভি ফুটেজ, মাইকে ভুল ঘোষণা ইত্যাদি) এই আদেশে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য করণীয় সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট অনুযায়ী এই তদন্তের ওপর হাইকোর্ট সরাসরি কোনো নজরদারি (monitoring) করবে না। তদন্ত শেষে কমিশন সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে এবং সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকার পদক্ষেপ নেবে।
এদিন আইনজীবী কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্য সরকারের তরফেও রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারও বলেছে যো কর্মরত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বাধীনে সিট গঠন করা হোক। কিন্তু হাইকোর্ট এনকোয়ারি কমিশনস অ্যাক্টে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। তারা সেই রিপোর্ট জমা দিলে, তার পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”
এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগামী বছর তো চলে আসবে দেখতে দেখতে, এই ঘটনা থেকে কী শিক্ষা নিলাম, কী পদক্ষেপ করলাম, এটা বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটির সুপারিশ করাই ভালো। কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখবে। সেই জন্য ওই টিমে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভাকে রাখা হয়নি। রাজ্য পুলিশকে রাখা হয়েছে। এনডিআরএফের প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি (ডিজাস্টার)-ও থাকবেন। আমরা চেয়েছিলাম সিটিং জাজ, কিন্তু প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই আমরা আপনাদের সামনে আনব এবং বিধানসভাতেও পেশ করব। ওঁদের সুপারিশ মেনে আগামী বছর যাতে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ফুল-প্রুফ হয়, তা নিশ্চিত করব।”
