বিস্ফোরণে জোড়া দায় স্বীকার, জইশ না আইসিস-ধন্দে তদন্তকারী সংস্থা

এদিকে আইসিস (ISIS) সংগঠনের একটি গোষ্ঠীর তরফেও দাবি করা হয়েছে, তাঁরা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। যদিও উপযুক্ত কোনও তথ্য প্রমাণ না থাকায় এই দাবি মানতে নারাজ তদন্তকারীরা।

বিস্ফোরণে জোড়া দায় স্বীকার, জইশ না আইসিস-ধন্দে তদন্তকারী সংস্থা
বিস্ফোরণস্থল পরীক্ষা করে দেখছেন দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল। ছবি:ANI

নয়া দিল্লি: শুক্রবার রাজধানীতে ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করল একটি জঙ্গি সংগঠন। জইশ-উল-হিন্দ (Jaish-Ul-Hind) নামক একটি সংগঠন বিস্ফোরণের সাফল্যের কথা স্বীকার করলেও বিস্ফোরণে তাঁরাই জড়িত কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় তদন্তকারী সংস্থা।

logo2

জানা গিয়েছে, টেলিগ্রামের মেসেজ দেখেই এই হামলার ঘটনায় জইশ-উল-হিন্দ সংগঠনের যোগ খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। টেলিগ্রামে ওই সংগঠনের নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া মেসেজে বলা হয়েছে, “আল্লাহর অশেষ কৃপা ও আশীর্বাদে জইশ-উল-হিন্দের সৈন্যরা দিল্লির উচ্চ নিরাপত্তা বিশিষ্ট এলাকায় আইইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। এটা কেবল শুরু। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরেও বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।”

তবে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল এখনও ঘটনার পিছনে কার হাত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না, কারণ আইসিস (ISIS) সংগঠনের একটি গোষ্ঠীর তরফেও দাবি করা হয়েছে, তাঁরা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। যদিও উপযুক্ত কোনও তথ্য প্রমাণ না থাকায় এই দাবি মানতে নারাজ তদন্তকারীরা। বিস্ফোরণের আসল চক্রী সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারায় সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন: দিল্লির তিন সীমান্তেই সাময়িকভাবে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা, নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের

এদিকে, গতকালের বিস্ফোরণের পরই সন্দেহ গিয়েছে ইরানের উপর। সেই কারণেই ইরানগামী একটি বিমানের সমস্ত যাত্রীদের জেরা করা হয়। সন্দেহজনক কিছু না মেলায় পরে যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর ছাড়ে ওই বিমান।

গতকালের বিস্ফোরণস্থলে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুট ঘিরেই ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। বিস্ফোরকটি যে প্লাস্টিকে মোড়া ছিল, তার উপরই এই কাগজের টুকরোটি লাগানো ছিল। সেখানে লেখা ছিল “এটা তো কেবল ট্রেলর।” সেই চিঠিতে গতবছর মার্কিন ড্রোন হামলায় মৃত কমান্ডার সোলেমানি ও এক বিশিষ্ট পরমাণু বিশেষজ্ঞের নামও উল্লেখ করা হয়েছে শহিদ হিসাবে। সেই থেকেই সন্দেহের তির ইরানের দিকে।

ঘটনাস্থান খতিয়ে দেখছে আজ সকালেই জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী (National Security Guard)-র একটি দল ঘটনাস্থানে উপস্থিত হয়েছে। তারা বিস্ফোরকের প্রকৃতি পরীক্ষা করে দেখছেন। দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলও সকাল থেকেই তদন্ত করছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি আইইডি (IED) ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। ভাঙা ব্যাটারির টুকরো দেখে সন্দেহ, বিস্ফোরণ ঘটাতে টাইমারের ব্যবহার করা হয়েছিল।

এদিকে, ভারতে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রন মালকা (Ron Malka) জানান, শুক্রবারের বিস্ফোরণের ঘটনার পিছনে কোনও জঙ্গি সংগঠনের হাত থাকতে পারে। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণস্থল থেকে যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারত ও ইজরায়েল প্রশাসন এই বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। আপাতত এই হামলার পিছনে কোনও জঙ্গি সংগঠনের হাত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।”

জঙ্গি হামলার সন্দেহের পিছনে কারণ হিসাবে তিনি বলেন, “গতকাল ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৯ বছর পূরণ হওয়ার উদযাপন করা হচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ই দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণ হওয়ায় এই ঘটনাকে নিছকই কাকতলীয় বলে ভাবা উচিত নয়। তবে সকল সম্ভাবনাকেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: যৌন নির্যাতন নিয়ে পরপর বিতর্কিত রায়, সুপ্রিম কোর্টের কোপে বিচারপতি পুষ্প গনেড়িওয়ালা