মোদী ৩.০-তে ফের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হবেন অজিত দোভাল?

NSA: ১৯৬৮ ব্য়াচের কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজিত দোভাল। তিনি দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর প্রাক্তন ডিরেক্টরও বটে। তাঁকে দেশের সেরা গোয়েন্দাদের অন্যতম বলেই গণ্য করা হয়।

মোদী ৩.০-তে ফের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হবেন অজিত দোভাল?
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে অজিত দোভাল। ফাইল চিত্রImage Credit source: Twitter
Follow Us:
| Updated on: Jun 12, 2024 | 7:01 AM

নিউজ৯ প্রতিনিধি:

মন্ত্রীরা আসেন-যান, কিন্তু মোদী সরকারে একজনের পদ অপরিবর্তিত থাকে, তা হল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার যখন প্রথম মেয়াদ শুরু করে, সেই সময়ই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল অজিত দোভাল(Ajit Doval)-কে। ২০১৯ সালের ৪ জুন তাঁর পদের আরও ৫ বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। দেশের নিরাপত্তার ক্যাবিনেট কমিটিরও সদস্য তিনি। দেশে সবথেকে বেশিদিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন অজিত দোভাল।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই অজিত দোভালের ৫ বছরের মেয়াদও পূরণ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়নি। এর কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট তৈরি না হওয়া। তবে এখন ক্যাবিনেট তৈরি হয়ে যাওয়াতেই সকলের নজর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অফিসের দিকে। ফের অজিত দোভালকেই এনএসএ হিসাবে নিয়োগ করা হয় কি না, সেদিকেও নজর।

এনএসএ পদে কে বসবেন, তা জানার আগে জেনে নেওয়া যাক এনএসএ বা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কী করেন? 

দেশের অন্যতম ক্ষমতাবান আধিকারিক হলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। দেশের অভ্য়ন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন তিনি। দেশের নিরাপত্তা, ভূ-রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র-অর্থনীতিতে তাঁর কৌশলগত বিশেষ ভূমিকা থাকে। দেশের সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থা যেমন র‌্য (R&AW), ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, এনটিআরও, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির কাছ থেকে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট পান এনএসএ।

তিনি দেশের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান। তার সেক্রেটারিয়েটে তিনজন ডেপুটি থাকেন। তিনি নীতি নির্ধারক কমিটিরও সদস্য, যেখানে দেশের তিন সেনা প্রধান, ক্য়াবিনেট সেক্রেটারি, নীতি আয়োগের আধিকারিক সহ একাধিক শীর্ষকর্তারা থাকেন।

কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়?

প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত সঙ্গী হন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এই পদের নির্দিষ্ট কোনও মেয়াদ নেই। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সঙ্গেই তাঁর মেয়াদ শেষ হয়। এনএসএ-র কোনও বয়সসীমাও নেই। উদাহরণ হিসাবে অজিত দোভালকেই দেখা যেতে পারে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ৮০-তে পা দেবেন। দেশের প্রবীণতম আধিকারিকদের মধ্য়ে তিনি অন্যতম।

কে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হতে পারেন?

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা সকলেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক। প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা এনএসএ ছিলেন ব্রজেশ মিশ্র (১৯৯৮-২০০৪)। তিনি একজন আইএএস অফিসার ছিলেন। এরপর জেএন দিক্ষিত ২০০৪ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন, তিনি একজন আইএফএস আধিকারিক। এমকে নারায়ণ (২০০৫-২০১০)-ও আইপিএস অফিসার ছিলেন। এরপর আইএফএস অফিসার তথা প্রাক্তন বিদেশ সচিব শিবশঙ্কর মেনন (২০১০-২০১৪) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, কোনও প্রতিরক্ষা আধিকারিক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হননি।

বাকিদের থেকে কেন আলাদা দোভাল?

১৯৬৮ ব্য়াচের কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজিত দোভাল। তিনি দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর প্রাক্তন ডিরেক্টরও বটে। তাঁকে দেশের সেরা গোয়েন্দাদের অন্যতম বলেই গণ্য করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে বিগত ১০ বছরে তিনি দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিকে কঠোর করেছেন। পাকিস্তান সম্পর্কেও কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন তিনি। দোভালের আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা নীতির জোরেই ২০১৬ সালে পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালানো হয়, ২০১৯ সালে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক চালায় বায়ুসেনা।

চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ মেটাতেও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অজিত দোভাল। মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। অজিত দোভালের মতো অভিজ্ঞতা কারোর নেই।

তৃতীয় দফাতেও মোদী সরকারকে অনিশ্চয়তা পূর্ণ বিশ্বে কাজ করতে হবে যেখানে একাধিক চ্যালেঞ্জ প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে, বিশেষ করে পাকিস্তান ও চিন- দুই পড়শি দেের বাধা তো রয়েইছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে অজিত দোভালই যে সেরা পছন্দ, তা বলার প্রয়োজন রাখে না।