Mamata Banerjee: ‘মৃত্যুকুম্ভ’ Vs ‘হিন্দুস্তান’, মহাকুম্ভ নিয়ে ‘মহাবিতর্ক’ মমতা-শুভেন্দুর
Mamata Banerjee: মহাকুম্ভ ও নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "একটা বড় অনুষ্ঠানে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু, তার মোকাবিলায় পরিকল্পনা করতে হবে। কী পরিকল্পনা করেছিলেন আপনারা? মহাকুম্ভ শুরু হওয়ার দিন পর্যন্ত কোনও পরিকল্পনা হয়নি।" জবাব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

কলকাতা: ১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভ মেলা। কোটি কোটি মানুষ পা রাখছেন প্রয়াগরাজে। কিন্তু, মহাকুম্ভে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানিও হয়েছে। এই নিয়ে এবার কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাকুম্ভের প্রসঙ্গ টেনে মৃত্যুকুম্ভ বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্যের জবাব দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মহাকুম্ভ আমি নাইবা বললাম। এখন মৃত্যুকুম্ভ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুকুপের মতো। আমি মহাকুম্ভকে সম্মান করি। শ্রদ্ধা জানাই। পবিত্র গঙ্গা মাকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু, পরিকল্পনা না করে এত হাইপ তুলে এতজনের মৃত্যু। বললেন ৩০ জন। কথাটা কি সঠিক? গত মৃতদেহ ভাসিয়ে দিয়েছেন নদীতে? কত? হাজার হাজার। আটবার আগুন লেগেছে। বড়লোক আর ভিআইপিদের জন্য লক্ষ টাকার ক্যাম্প। আর সাধারণ মানুষের জন্য লাইনে ১৫-২০ ঘণ্টা দাঁড়ান। যদি একটা মাদুরেও বসে, তার জন্য ২ হাজার টাকা। এক কাপ লাল চা-ও ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। তারা যে জায়গা দিয়ে স্নান করবে, সেটা আলাদা। ভিআইপি-রা যেখান দিয়ে স্নান করবে, তা আলাদা। আর সেই জলটা আপনারা দূষিত করেছেন। বিষাক্ত করেছেন। মহাকুম্ভের পবিত্র জায়গাটা।”
তিনি আরও বলেন, “সব জায়গায় হাইপ তুলে দিয়েছে, এখানে স্নান কর, না হলে পবিত্র হবি না। মৃতদেহের উপর দিয়ে যাঁরা এই হাইপ তুলছেন, আর টাকা কামানোর জন্য ধর্মকে বিক্রি করছেন, তাঁদের আমি মন থেকে মেনে নিতে পারি না।”
মহাকুম্ভ ও নয়াদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা বড় অনুষ্ঠানে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু, তার মোকাবিলায় পরিকল্পনা করতে হবে। কী পরিকল্পনা করেছিলেন আপনারা? মহাকুম্ভ শুরু হওয়ার দিন পর্যন্ত কোনও পরিকল্পনা হয়নি। এবং এখনও আমি দেখছি, আসানসোল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গার লোক এনে ভরছেন। আর বলছেন, চলো সব বিনা পয়সায় করে দেব। বিনা পয়সায় ট্রেন দিচ্ছে। আগে দেখুন, ট্রেনে কতজন যেতে পারে। এত হাইপ তুলতে গেলেন কেন? এইসব অনুষ্ঠানে এত হাইপ তুলতে নেই। রেলে (দিল্লিতে) পদপিষ্টের ঘটনায় অনেকে মারা গিয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তারপরও আমরা বিশেষ কিছু বলিনি। কারণ, এটা একটা দুর্ঘটনা। যেকোনও জায়গায় ঘটতে পারে। তা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করি না।”
কেন্দ্রকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা লেদার কমপ্লেক্স এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে ৩ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কমিশন পাঠাচ্ছেন। চিঠি পাঠাচ্ছেন। মহাকুম্ভে এত বড় ঘটনার পর কটা কমিশন পাঠিয়েছেন? আমার রাজ্যের যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের ডেথ সার্টিফিকেটও দেননি। ময়নাতদন্তও করেননি। পরিবার যাতে ডেথ সার্টিফিকেট পায়, তার জন্য এখানে ময়নাতদন্ত করিয়েছি।”
গঙ্গাসাগরের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলার ৬-৭ মাস আগে বৈঠক হয়।” কারও নাম না করে তিনি বলেন, “ধর্ম বিক্রি করে খাওয়ার জায়গা নয়। আশা করি ধর্ম নিয়ে বকধার্মিকদের উপযুক্ত উত্তর দিতে পেরেছি।”
অধিবেশনে মহাকুম্ভ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মহাকুম্ভের পুণ্যস্নান, এক হয়েছে হিন্দুস্তান। মহাকুম্ভকে কেন্দ্রকে গোটা পৃথিবীর হিন্দুরা অনেকদিন পর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দলদাস আইপিএসরা ওনাকে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কয়েক লক্ষ হিন্দু, সেটা ১ কোটির বেশি ২ কোটিও হতে পারে, স্রোতের মতো গিয়েছেন। তৃণমূলের অনেক পরিচিত সাংসদ, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তাঁরাও নিজেদের মহাকুম্ভে ডুব দেওয়ার ছবি দিয়েছেন। বাধ্য হয়েছেন ছাড়তে। তাই মুখ্যমন্ত্রী আজকে ভয় পাচ্ছেন কুম্ভকে দেখে।”
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, “এখনও পর্যন্ত মহাকুম্ভে ৪০ কোটি মানুষ গিয়েছেন। সবাই আশা করছেন, আরও ১০ কোটি মানুষ যাবে। সেখানে আপনি মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেছেন। আপনি বলেছেন কুম্ভমেলা টাকা রোজগারের জন্য করা হয়েছে। এতবড় অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এই মন্তব্যের খেসারত আপনাকে দিতে হবে। মহাকুম্ভের অপমান হিন্দুস্তান সহ্য করবে না। হিন্দুস্তান আপনাকে গণতান্ত্রিকভাবে সবক শেখাবে। মহাকুম্ভকে অপমান করার জন্য যেখানেই সুযোগ পাবেন, মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ান। প্রয়াগরাজের সব আখড়াকে অনুরোধ করব, এই অপমানের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।”
গত ১৪ জানুয়ারি প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলা শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা ভিড় করছেন মহাকুম্ভে। উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের অনুমান, ৪৫ দিনের এই মহাকুম্ভে ৪০-৪৫ কোটির মতো পুণ্যার্থী পা রাখতে পারেন মহাকুম্ভে। সেইমতো ধরলে গড়ে প্রতিদিন এক কোটি পুণ্যার্থী যাচ্ছেন মহাকুম্ভে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





