Women’s Cricket: টিমে শিক্ষক-সেক্রেটারি-আর্টস স্টুডেন্ট-আইনজীবী, বাদ বিবাহিতরা!
First Ever Women's Test Cricket: মহিলা দলের এই সফরে আরও শর্ত ছিল। ধূমপান করা যাবে না, মদ খাওয়া, জুয়া খেলা কিংবা কোনও পুরুষের সঙ্গে থাকা চলবে না! যাতায়াতেই তো কেটে যাবে অনেক দিন। তাহলে সময় কাটবে কীভাবে! নিজেদের রাস্তা খুঁজে নিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। জাহাজের ডেকে ক্রিকেট খেলা এবং ছবি তোলা, এই ছিল সময় কাটানোর সেরা উপায়। সফর এতটাও সুখকর ছিল না। বিশেষ করে দেশ ছাড়ার সময়, এক অনিশ্চিতের পথে।

কলকাতা: প্রথম সব কিছুই স্মরণীয়। আপাতত আলোচনায় ভারতের প্রথম জয়। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। মেয়েদের টেস্ট ক্রিকেটে এই নিয়ে ১১ বার মুখোমুখি হয়েছিল দু-দেশ। এর আগের দশ বারে জয়ের স্বাদ পায়নি ভারত। অবশেষে ঐতিহাসিক জয় হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতের। এই জয়ে কৌতুহলও জাগছে। আচ্ছা, মেয়েদের ক্রিকেটে প্রথম টেস্ট কবে হয়েছিল? কোন দেশ মুখোমুখি হয়েছিল, কারাই বা খেলেছিলেন! তারই খোঁজ TV9Bangla Sports-এর এই প্রতিবেদনে।
শিক্ষক, সেক্রেটারি, আর্টসের স্টুডেন্ট, আইনজীবী। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে! মেয়েদের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম টেস্টে এমনই দেখা গিয়েছিল। শুরু থেকে শুরু করা যাক। মেয়েদের ক্রিকেটে প্রথম টেস্ট হয়েছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। ক্রিকেট খেলা শুরু হয়েছিল তারও অনেক আগে। অন্তত তথ্য তাই বলছে। তবে প্রথম টেস্ট হয়েছিল ১৯৩৪-৩৫ মরসুমে। নিজেদের দেশে খেলা আর অন্য দেশ, এক নয়। আমন্ত্রণও প্রয়োজন। অবশেষে ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেটাররা সেই আমন্ত্রণ পান ১৯৩৪ সালে। এতেই সমস্যা মিটছে না।
প্রথম বার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দল। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মাসের সফর। এর জন্য নানা প্রস্তুতিও প্রয়োজন। প্রথমত, সমস্ত খরচ নিজেদেরই বহন করতে হবে। এমনকি ব্লেজারের খরচও। ১৯৩৪-এ প্রত্যেকের জন্য এই খরচের হিসেব দাঁড়িয়েছিল ৮০ পাউন্ড! বর্তমানের হিসেবে আর নাই বা গেলেন! ফলে এই খরচের জন্য অনেকেই বাদ পড়েছিলেন।
এরপর যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যেও বিবাহিতরা বাদ পড়েন। কারণ, ছ-মাসের সফর, বাড়ির বাইরে এত দিন থাকার অনুমতি ছিল না। ফলে ইংল্যান্ডের যে টিম দাঁড়ায়-সাতজন শিক্ষক, দু’জন সেক্রেটারি, দু’জন আর্টস স্টুডেন্ট, আইনজীবি, সেনাকর্মী এবং আরও দু’জন যাঁরা কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন ৩৫জন! এর মধ্যে বাদ পড়েন বেশিরভাগই।
ইংল্যান্ড মহিলা দলের এই সফরে আরও শর্ত ছিল। ধূমপান করা যাবে না, মদ খাওয়া, জুয়া খেলা কিংবা কোনও পুরুষের সঙ্গে থাকা চলবে না! যাতায়াতেই তো কেটে যাবে অনেক দিন। তাহলে সময় কাটবে কীভাবে! নিজেদের রাস্তা খুঁজে নিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। জাহাজের ডেকে ক্রিকেট খেলা এবং ছবি তোলা, এই ছিল সময় কাটানোর সেরা উপায়। সফর এতটাও সুখকর ছিল না। বিশেষ করে দেশ ছাড়ার সময়, এক অনিশ্চিতের পথে। সমস্যা হওয়াই তো স্বাভাবিক! নেই কোনও আগ্রহ, প্রচার। সংবাদপত্রে জায়গা পেত না সেই সময় মেয়েদের ক্রিকেট। এই রূপটা বদলে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড ব্যাটার মলি হাইড। সেটার জন্যও সময় লেগেছিল অনেকটা। তার চেয়ে বরং প্রথম টেস্টের প্রসঙ্গেই আসা যাক।
ব্রিসবেনে প্রথম টেস্ট। ২৮-৩১ ডিসেম্বর ১৯৩৪ সাল। ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। প্রায় ৫০ ওভার ব্যাট করে তারা। রান যদিও খুব বেশি ওঠেনি। মাত্র ৪৭ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া। দু-অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছিলেন একমাত্র কেথ স্মিথ। কিপার হিলদা হিলস আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। ৭ উইকেট নিয়েছিলেন মির্টল ম্যাকলগান। পিটার টেলর নেন দুটি উইকেট।
ইংল্যান্ডের হয়ে যিনি বোলিং ওপেন করেছিলেন, সেই মির্টল ম্যাকলগান ব্যাটিংও ওপেন করেন। তাঁর ৭২ রানের বিশাল ইনিংস। এ ছাড়াও দু-অঙ্কের রানে পৌঁছন ব্যাটি আর্শাডল (৩২)। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ১৫৪ রান করে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭ উইকেট নেন অ্যান পামার। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ১৩৮ রান করে তারা। হাফসেঞ্চুরি করেন এশি শেভিল। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। ১ উইকেট হারিয়েই জয় ইংল্যান্ডের। মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম জয়ের রেকর্ড ইংল্যান্ডের দখলে।
ম্যাচে আরও একটা স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল। অজি টিমে খেলেছিলেন দুই বোন এশি শেভিল ও বার্নে ব্লেড। প্রথম টেস্টের পরই বাদ পড়েন বার্নে ব্লেড। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে এশি শেভিলের যমজ বোন রেনে শেভিল খেলেছিলেন।





