Annapurna Yojana: ‘উনুনে পুড়ছে আমার ফটোসুদ্ধ অন্নপূর্ণার ফর্ম’, ৩ হাজার টাকা না পাওয়ায় তুলকালাম হাড়োয়ায়
Annapurna Yojana: ICDS কর্মীর বাড়িতে এই দৃশ্য দেখার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপভোক্তারা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ঠিকঠাক করে ফর্ম ফিলাপের পরও তাঁরা টাকা পেলেন না। তারপর গিয়ে তাঁরা জানতে পারলেন আদতে তাঁদের ফর্ম জমাই পড়েনি। বরং তা বাড়ির উনুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বসিরহাট: প্রতিবেশীর বাড়িতে জল দিতে এসেছিলেন। প্রতিবেশী তখন রান্না করছেন। চুলোয় কাগজ দিয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আর সেই কাগজের দিকেই চোখ পড়ে যায় মহিলার। আর তাতেই বুকটা কেঁপে ওঠে তাঁর। কারণ ওই কাগজের কোণা থেকে বেরিয়ে ছিল তাঁর পাসপোর্ট সাইজের ছবিটা! আরে ওটা তো অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। যিনি চুলোয় ওই কাগজ ঢোকাচ্ছিলেন, তিনি ICDS কর্মী। তাঁর কাছেই গ্রামের বেশিরভাগ মহিলা ফর্ম জমা করেছিলেন। আর তাঁদের কেউই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। উপভোক্তারা সাতপাঁচ ভাবছিলেন। কিন্তু এবার বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। অভিযোগ, ওই কর্মী অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম রান্না করার সময়ে উনুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। উত্তপ্ত বসিরহাটের হাড়োয়ার খাসবালান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসাবাটি গ্রাম। সোমবার সকালে আইসিডিএস কর্মীর বাড়িতে তুমুল বিক্ষোভ উপভোক্তাদের। ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা। ব্যাপক উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাড়োয়া থানার পুলিশ। অভিযুক্তের নাম মমতা বিশ্বাস।
জানা যাচ্ছে, গ্রামের অধিকাংশ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকছে না। তাঁরা একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। টাকা না পেয়ে আইসিডিএস কর্মী মমতা বিশ্বাসের বাড়িতেও কথা বলতে যান। সোমবার সকালে সেখানে গিয়েছিলেন গ্রামেরই এক মহিলা। তিনি বিষয়টি একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। উপভোক্তাদের দাবি, ICDS কর্মীর বাড়িতে গিয়েই তাঁরা দেখতে পান, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের আধপোড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের ফর্ম বাড়ির উনুনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ICDS কর্মীর বাড়িতে এই দৃশ্য দেখার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপভোক্তারা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ঠিকঠাক করে ফর্ম ফিলাপের পরও তাঁরা টাকা পেলেন না। তারপর গিয়ে তাঁরা জানতে পারলেন আদতে তাঁদের ফর্ম জমাই পড়েনি। বরং তা বাড়ির উনুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ICDS কর্মীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
এক বিক্ষোভকারী তসলিমা খাতুন বলেন, “আমি উনুনের মধ্যে কাগজটা দেখতে পাই। শুধু আমার মুখটাই দেখতে পেয়েছিলাম। তখন কাগজটা বার করে দেখি এটা অন্নপূর্ণার ফর্ম। আগুন নিভিয়ে দেখি এই কাণ্ড। আমার কাগজটা এখন আধপোড়া।” আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমার স্বামী তো ২০০ টাকা রোজ পান। আমি সংসারটা চালাই কীভাবে। একবারও আমার টাকা ঢোকেনি। ” আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “কাগজ ICDS কর্মীর বাড়িতে জমা দেওয়ার পর থেকে আর টাকা পাই না। তিন মাস টাকা পাচ্ছি না। আমার বর হকারি করি। আজ দেখি এই কাণ্ড ঘটাচ্ছেন তিনি। অন্নপূর্ণার ফর্ম উনুনে দিয়ে পোড়াচ্ছেন, তাই দিয়েই খিচুড়ি রান্না হচ্ছে।”
হাড়োয়ার বিজেপি নেতা বিমল দাস বলেন, “এটা একদমই উচিত হয়নি। ওনার বক্তব্য, যাঁদের নাম ডিলিট হয়েছে, তাঁদের ফর্মই নাকি পুড়িয়েছেন। কিন্তু এটাও তো ওনার করা ঠিক হয়নি। কারণ এখনও তো কিছুই প্রমাণ হয়নি। তৃণমূলের অনেক লোক রয়েছেন, যাঁরা চান না বিজেপি কর্মীদের বাড়ির লোক অন্নপূর্ণার টাকা পান। আমাদেরই অনেক কর্মী রয়েছেন, যাঁদের বউরা টাকা পাননি। রাতে বাড়িতে ফিরলেই সারা রাত তাঁদের বউয়ের ক্যাচকেচানি শুনতে হয়।”
কার নির্দেশে বা কী কারণে এই ফর্মগুলি পুড়িয়ে দিলেন আইসিডিএস কর্মী, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে আইসিডিএস কর্মী মমতা মণ্ডলকে উদ্ধার করে হাড়োয়া থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ।
