কবে থেকে চলবে লোকাল ট্রেন? স্টেশনে-স্টেশনে ধুন্ধুমারের পর স্পষ্ট করল পূর্ব রেল

লোকাল ট্রেন শহরতলির মানুষের লাইফ লাইন! কী বলছে রেল? কবে চালু হতে পারে লোকাল ট্রেন?

কবে থেকে চলবে লোকাল ট্রেন? স্টেশনে-স্টেশনে ধুন্ধুমারের পর স্পষ্ট করল পূর্ব রেল
নিজস্ব চিত্র

কলকাতা: রেল অবরোধ ঘিরে শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার তুলকালাম। স্পেশ্যাল ট্রেনে উঠতে না দেওয়ায় যাত্রীদের বিক্ষোভ। অবরোধ হয় একাধিক স্টেশনে। মল্লিকপুরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট। করা হয় গাড়ি ভাঙচুরও। সকালে বিক্ষোভ হয় সোনারপুরে। বারুইপুর স্টেশনও রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘড়ির কাঁটায় তখন ৭ টা বাজে। শিয়ালদা-ডায়মন্ডহারবার লোকাল সোনারপুর স্টেশনে এসে পৌঁছয়,  নিত্য যাত্রীরা ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। এরপরই ট্রেনের সামনেই বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন যাত্রীরা। বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। এক যাত্রী বলেন, “দিদির কাছে অনুরোধ ট্রেন চালালে সব চলুক, না হলে কোনও ট্রেনই চলবে না। কিছু লোক যেতে পারছেন, কিছু পারছেন না। এইভাবে পেটে কতদিন ভাত জোগাতে পারব!”

সোনারপুরের এদিনের বিক্ষোভের সামনের সারিতে ছিলেন মহিলারা। তাঁদের দাবি, “লোকাল ট্রেন চালাতে হলে প্রত্যেক ট্রেন চলুক। না হলে কোনও ট্রেনই চলবে না।” এদিন প্রায় ঘণ্টা খানেক ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান যাত্রীরা। সোনারপুরে কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।

ট্রেন মল্লিকপুরে পৌঁছতে আরও বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। তাদেরকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে দক্ষিণের  দিকে দিকে দানা বাঁধতে শুরু করেছে বিক্ষোভ। মেইন লাইনে তার আঁচ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছরের চিত্র যেন এবার আরও জ্বলজ্বল করছে।

লোকাল ট্রেন শহরতলির মানুষের লাইফ লাইন! কী বলছে রেল? কবে চালু হতে পারে লোকাল ট্রেন?

লোকাল ট্রেন কবে চালু হতে পারে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনও তথ্য রেলের কাছে নেই। কারণ লোকাল ট্রেন চালু করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। রেলের পক্ষ থেকে এর আগে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে ডিআরএম শিয়ালদা রাজ্যকে চিঠি করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, লোকাল ট্রেন চালাতে প্রস্তুত পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে লোকাল ট্রেন চালু করার অনুমতি দেয়নি রাজ্য সরকার। স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল তা কি মেয়াদ উত্তীর্ণ? কসবার আগেও সিটি কলেজে ক্যাম্প করেছিলেন দেবাঞ্জন

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি যাতে ট্রেন চালানো যায়। আমরা রাজ্য সরকারকে ইতিমধ্যেই চিঠি লিখেছিলাম। ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এখনও অনুমতি দেয়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতিটা একটু জটিল হয়েছে। কারণ এর সঙ্গে মানুষের রুজিরুটির প্রশ্ন জড়িত। ট্রেন আমরা চালাতে প্রস্তুত। স্যানিটাইজেশনও রেগুলার হচ্ছে। রাজ্য সরকার যখনই বলবে, আমরা ট্রেন চালাব। স্টাফ স্পেশ্যালে তাঁরাই উঠতে পারছেন, যাঁদের রাজ্য সরকার অনুমতি দিয়েছে।”

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla