Studio Ghibli: ‘ঘিবলি’ জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব! শুধু আজ নয়, চল্লিশ বছর ধরে মন ভাল করার ওষুধ দিচ্ছে Studio Ghibli, কী বলছে ইতিহাস
Studio Ghibli: স্টুডিও ঘিবলির সিনেমাগুলিতে সাধারণত গভীর আবেগময় গল্প, সূক্ষ্মতার সঙ্গে চরিত্রের বিশ্লেষণ, বিস্ময়কর অ্যানিমেশন দেখা যায়। একইসঙ্গে সামাজিক ইস্য়ু থেকে পরিবেশগত সচেতনতার কথাও তুলে ধরা হয় ছবিগুলিতে।

কলকাতা: ফেসবুকের ওয়াল হোক হোয়াটসঅ্য়াপের স্টেটাস, গত কয়েকদিন ধরে যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা যাচ্ছে এক বিশেষ ধরনের কার্টুন। যা আদপে আমার-আপনারই সাধারণ ছবির প্রতিবিম্ব। এক ক্লিকেই ‘ডিজিটাল আর্ট’ ভাল করে দিচ্ছে মন। নেপথ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আর এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেপথ্যে ‘স্টুডিয়ো ঘিবলি’। বিগত কয়েকদিনে এই একটা নামই কার্যত ট্রেন্ডিং খাতায় এক্কেবারে এক নম্বরে। ‘ঘিবলি’ জ্বরে ভুগছে নেটিজেনরা। কিন্তু, এই ‘ঘিবলি’? কী বলছে ইতিহাস?
কবে থেকে শুরু পথচলা?
জাপানি অ্যানিমেশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় সংস্থা স্টুডিয়ো ঘিবলি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অগণিত অ্যানিমেশনপ্রেমীদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে ফেলেছে এই জাপানি সংস্থা। পথচলা শুরু ১৯৮৫ সালের ১৫ জুন। কিংবদন্তি পরিচালক হায়াও মিয়াজাকি, ইসাও তাকাহাতা এবং প্রযোজক তোশিও সুজুকির উদ্যোগেই তৈরি হয় ঘিবলি। এর আগে মিয়াজাকি এবং তাকাহাতা ১৯৮৪ সালে ‘নওশিকা অব দ্য ভ্যালি অব দ্য উইন্ড’ ছবিটি তৈরি করেন। ‘অ্যানিমে’ নির্ভর এই ছবি নিয়ে বিস্তর চর্চা চলে গোটা বিশ্বেই। পরবর্তী বছরেই তৈরি হয়ে যায় ঘিবলি স্টুডিয়ো। অচিরেই স্টুডিও ঘিবলি তাদের অ্যানিমেশন নির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়।
জাপানি সংস্কৃতি, কল্পনাশক্তি, নৈতিকতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায় ঘিবলি স্টুডিয়োর ছবিতে। তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু সিনেমা যা আজও বিশ্বব্যাপী সিনেপ্রেমীদের চর্চায় রয়েছে। তালিকায় রয়েছে…
১. মাই নেইবার টটোরো (১৯৮৮) – শিশুদের কল্পনার জগৎ এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসার এক অসাধারণ উপস্থাপনা।
২. কিকি’স ডেলিভারি সার্ভিস (১৯৮৯) – এক কিশোরী জাদুকরীর স্বনির্ভর হওয়ার গল্প।
৩. প্রিন্সেস মোনোনোকি (১৯৯৭) – প্রকৃতি ও মানব সভ্যতার সংঘর্ষের এক চমৎকার উপাখ্যান।
৪. স্পিরিটেড অ্যাওয়ে (২০০১) – এক রহস্যময় জগতে আটকে পড়া এক কিশোরীর অবিস্মরণীয় অভিযাত্রা। এটি ২০০৩ সালে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে (অস্কার) সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম পুরস্কার লাভ করে।
৫. হাউল’স মুভিং ক্যাসল (২০০৪) – যুদ্ধ, প্রেম ও জাদুবাস্তবতার এক অসাধারণ সমন্বয়।
কেন ফর্মুলায় সফল স্টুডিয়ো ঘিবলি?
স্টুডিও ঘিবলির সিনেমাগুলিতে সাধারণত গভীর আবেগময় গল্প, সূক্ষ্মতার সঙ্গে চরিত্রের বিশ্লেষণ, বিস্ময়কর অ্যানিমেশন দেখা যায়। একইসঙ্গে সামাজিক ইস্য়ু থেকে পরিবেশগত সচেতনতার কথাও তুলে ধরা হয় ছবিগুলিতে। তবে আবেগই সব ছবিতে শেষ কথা। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, বিগত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ঘিবলি ঝড় চলছে সেখানেও বড় জায়গা করে নিয়েছে এই ‘কিউটনেস’। সোজা কথায় এ এমন এক জাপানি সংস্কৃতি নির্ভর ‘আর্ট ফর্ম’ যা এক ঝলক দেখলে মন ভাল হতে বাধ্য। ঘিবলি কার্টুন নির্ভর কাজ করলেও এই স্টুডিয়ো কখনওই নিজেদের শুধুমাত্র শিশুদের জন্য সিনেমা নির্মাণের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি। উল্টে তাঁদের গল্পের গভীরতা ও অন্তর্নিহিত অর্থ সব বয়সী দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
২০১৩ সালে হায়াও মিয়াজাকি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেন। তারপর স্টুডিয়ো ঘিবলির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে তিনি আবারও কাজে ফিরে আসেন। নতুন চলচ্চিত্র ‘হাউ ডু ইউ লিভ?’ (২০২৩) তৈরি করেন। বর্তমানে স্টুডিও ঘিবলি ডিজনি ও অন্যান্য অ্যানিমেশন স্টুডিওগুলির সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় নাম লেখালেও নিজেদের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছে। বিশ্বব্যাপী দর্শকদেরও মুগ্ধ করতে সমর্থ হয়েছে। তাদের চলচ্চিত্রগুলি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং একেকটি অনন্য শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়, এমনটাই মত চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের।





