Interview: প্রথম উপন্যাস ফেসবুকে লেখার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়?

Samragnee Bandyopadhyay: সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়। গত দু’তিন বছরে বাংলা ছবির সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে এই নাম। ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ লিখছেন তিনি। তবে সাহিত্য জগতে সম্রাজ্ঞী নতুন নাম নন। কবি হিসেবে পরিচিত তিনি। এ হেন সম্রাজ্ঞীর তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নাম না জানা রাস্তাগুলো’ লিখছেন ফেসবুকে।

Interview: প্রথম উপন্যাস ফেসবুকে লেখার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়?
সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক থেকে গৃহীত।

সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়। গত দু’তিন বছরে বাংলা ছবির সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে এই নাম। ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ লিখছেন তিনি। তবে সাহিত্য জগতে সম্রাজ্ঞী নতুন নাম নন। কবি হিসেবে পরিচিত তিনি। এ হেন সম্রাজ্ঞীর তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নাম না জানা রাস্তাগুলো’ লিখছেন ফেসবুকে। প্রতি সপ্তাহে একটি নতুন পর্ব। উপন্যাস ফেসবুকে লিখেছেন এমন উদাহরণ সাহিত্য জগতে রয়েছে। কিন্তু প্রথম উপন্যাস ফেসবুকে লেখার সাহস সম্ভবত এর আগে কেউ দেখাননি। কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?

আপনার আগে বাংলায় আপনার অগ্রজরা কেউ প্রথম উপন্যাস ফেসবুকে লিখেছেন?

এর আগে উপন্যাস পোস্ট করেছেন সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুকে উপন্যাস খুব একটা কেউ পোস্ট করেন না। যত বেশি গদ্য, প্রবন্ধ, কবিতা পোস্ট করা হয়। উপন্যাস হয় না। তবে এর আগে উপন্যাস পোস্ট করেছেন ধারাবাহিক ভাবে সঙ্গীতাদি। প্রথম উপন্যাস অন্তত বাংলায় সম্ভবত কেউ ফেসবুকে লেখেননি।

আপনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

আমার স্ক্রিপ্ট লেখালেখির মধ্যে অনেকদিন কবিতা লেখা হচ্ছে না। কবিতা সঙ্গে নেই। কবিতা তো না থাকলে লিখে ফেলা যায় না। ভরা লকডাউন, কোভিডের সময় বাড়িতে বসে উপন্যাস শুরু করেছিলাম। এর আগে নানা ভাবে চেষ্টা করেছি, এগোয়নি। উপন্যাসটা অনেক দূর গিয়ে একটা জায়গায় থমকে ছিল। আমার হঠাৎ মনে হল এত কিছুর মধ্যে আমার নিজের লেখালেখি একদম হচ্ছে না। যার মধ্যে আমি সব সময় ফিরে আসতে চাই। ফেসবুকে বহু বছর ধরে লিখছি। ফলে ফেসবুককে কখনও ছোট মাধ্যম, কম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে হয়নি। আমার মনে হল, এটাই সবচেয়ে সহজ মাধ্যম যাতে পাঠকের সঙ্গে ইনস্ট্যান্ট কমিউনিকেট করতে পারব। প্রথমবার একটা জঁর লিখছি, সেটা পাঠক কী ভাবে গ্রহণ করছেন সেটা বুঝতে পারব।

কোনও প্রকাশকের কাছে গেলেন না কেন? আপনি তো নতুন নন। নিজে থেকে অ্যাপ্রোচ করতেই পারতেন…

অন্য কিছু বইয়ের কথা চলছে। উপন্যাস কখনও লিখিনি তো, পাঠকের রেসপন্স না দেখে বইয়ের কথা ভাবতে চাইনি। কবিতা এত বছর ধরে লিখেছি। ভাষা নিয়ে একটা কাজ চলছে। কিন্তু উপন্যাস আমার কাছে নতুন। আমি কোনও কিছুতেই তাড়াহুড়ো করতে চাই না।

ফেসবুকের পাঠক সচেতন বলে মনে করেন?

আমাদের খুব ছোট পার্সেন্টেজের মানুষের হাতে ইন্টারনেট আছে। সেটার বাইরে যে বৃহদংশের মানুষ রয়েছে, তাঁদের আমি রিচ করতে পারছি না। সেটা একটা আক্ষেপ। কিন্তু যাঁরা ফেসবুক করছেন, তাঁরা সচেতন পাঠক নন, আমার এমন মনে হয় না। কারণ যাঁরা সচেতন পাঠক, তাঁরাও তো ফেসবুক করেন। তাঁরা যেমন রাতে গিয়ে বই পড়েন, তেমনই তাঁরা ফেসবুকেও লেখা পড়েন।

ফেসবুকে লেখা হারিয়ে যাওয়ার ভয় করে না? আরও একটা বিষয়, ফেসবুকে কি সত্যিই দীর্ঘ লেখা পাঠক পড়েন, নাকি ছোট লেখায় বেশি সংখ্যক ফেসবুক পাঠক আগ্রহী?

একেবারেই ভয় করে না। কারণ ফেসবুকে লেখার পর আর কোথাও এই উপন্যাসের জায়গা থাকবে না, তা তো নয়। এটা হয়তো ভবিষ্যতে বই আকারে বের হবে। ফলে এখন যে পাঠকের কাছে পৌঁছতে পারছি না, তখন তাঁদের কাছে পৌঁছতে পারব। ছোট লেখা হয়তো বেশি মানুষ পড়েন। কিন্তু বড় লেখাও তো অনেকে পড়েন। যাঁরা বই পড়েন, তাঁরা ফেসবুকেও লেখা পড়েন। আর একটা জিনিস, আমি আসলে উপরে হয়তো অর্গানাইজড, কিন্তু ভেতরে খুব এলোমেলো এবং অলস একটা মানুষ। ফলে নিজেকে ডিসিপ্লিনে বেঁধে না ফেললে কোনও কাজ হতে চায় না। উপন্যাসের শেষটা নিয়ে সন্দিহান। সেটা নিয়ে আমি আরও কাজ করতে চাই।

অগ্রজদের থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

ফেসবুকে হয়তো অনেকে লিখেছেন। অগ্রজের মধ্যে একটা সংখ্যার কাছে এখনও ফেসবুকে নতুন লেখা দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়। সেটা রেসপন্স না পাওয়ার একটা কারণ বলে আমার মনে হয়েছে। তবুও অগ্রজদের মধ্যে অনেকে পড়ছেন। শ্রীজাতদা আমার বন্ধু, সাহিত্য জগতে অগ্রজ। ও যেমন পড়েছে, জানিয়েছে। তবে এই মাধ্যমটাকে কতটা সাপোর্ট করেছে, বা বাকিরাও কতটা সাপোর্ট করছে, সেটা নিয়ে কথা হয়নি। আরও যত পোস্ট করব, তত হয়তো আরও পড়বেন সকলে।

ফেসবুকে লেখার অর্থ, পাঠককে কোনও মূল্যের বিনিময়ে আপনার লেখার কাছে পৌঁছতে হচ্ছে না। কিন্তু আপনি তো মেধার বিনিময়ে উপার্জন করেন। উপন্যাসও তো আপনার মেধারই ফসল। বিনামূল্যে তা পাঠকের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার কথা ভাবলেন কেন?

এটা খুব ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন। আমি ভাল করে উত্তর দিতে চাই। আমার লেখালিখি শুরু কবিতা দিয়ে। লেখার সঙ্গে যে অর্থ উপার্জন জড়িয়ে রয়েছে, সেটার কোনও আভাস তখন আমার কাছে ছিল না, যতদিন না পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে স্ক্রিপ্ট লিখতে এলাম অথবা স্ক্রিপ্ট লিখতে শুরু করে চাকরি ছাড়লাম। ফলে সেটা দিয়ে আমার মন গঠিত ছিল। আর একটা বিষয় মনে হয়, আমার মধ্যে হয়তো এখন দু’টো সত্ত্বা বাস করে। একটা আমার প্রফেশনাল রাইটিং। যেটাতে অ্যাডভান্স না ঢুকলে আমি একটা লাইনও লিখি না। আর একটা হল আমার নিজের লেখা। যেটার প্রতি প্রচণ্ড আদর, ভালবাসা রয়েছে, কিন্তু তা এমন নয়, যেটা আমাকে বইয়ের পাতাতেই দেখতে হবে। একটা পুরস্কার বা একটা দারুণ রয়ালটি পেতেই হবে। ওটার তাগিদ হল, যখন ইচ্ছে করছে লিখতে হবে। পাঠকের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে হবে। সবথেকে বড় কথা হল, লেখাগুলো যখন ভিতরে চেপে থাকে, আমি জানি সেই লেখা না বেরিয়ে গেলে আমি দ্বিতীয় কোনও লেখার কাছে যেতে পারব না। স্ক্রিপ্টের প্রতিও আমার সেই ভালবাসা রয়েছে, কিন্তু সেখানে একটা ডিলিং রয়েছে। যা বাইরের মানুষের সঙ্গে। এখন দু’-তিন বছর পর সকলের ভালবাসায় কাজ পাচ্ছি। কখনও সমান্তরাল ভাবে দু’-তিনটে স্ক্রিপ্ট একসঙ্গে চলছে। আলাদা ভাবে ঢুকতে হচ্ছে সেখানে। কিন্তু আমি জানি আমার নিজের লেখার ক্ষেত্রে কখনও দু’টো স্ক্রিপ্ট একসঙ্গে লিখতে পারব না। এই লেখাটা শেষ না করে আমি পরের উপন্যাসের কাছে যেতে পারব না। কারণ বাইরে থেকে কেউ অ্যাডভান্স দিয়ে এটা লিখতে বসায়নি। ভেতর থেকে কেউ বসিয়েছে। সে-ও নিশ্চয়ই কিছু অগ্রিম দিয়েছে। কিন্তু সেটা অনুভূতির অগ্রিম। আমি জানি কিছু পাওনা রয়েছে, যা উপন্যাসের শেষে না গেলে পাব না। আর সেই পাওনা আমি জাগতিক জিনিস দিয়ে বিচার করতে পারব না।

ছবির জগতে কী-কী কাজ আসছে?

অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় মুক্তি পাবে ‘বাবা বেবি ও’। তার ডায়লগ লিখলাম। অরিত্রদারই ‘ফাটাফাটি’ ফ্লোরে যাচ্ছে। সেখানে সংলাপ লিখেছি। উইনডোজ় প্রোডাকশন। ‘হইচই’-এর জন্য ‘উত্তরণ’-এর চিত্রনাট্য, ডায়লগ, স্টোরি মডিফিকেশন করলাম। সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা গল্পের উপর নির্ভর করে তৈরি। আর তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘অবিচুয়ারি’র কাজ করছি। আরও কিছু কাজ আসছে, কিছুদিন পরে জানাতে পারব।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla