Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Governor C V Ananda Bose: রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে পুলিশ? ব্যাখ্যায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

C V Ananda Bose: রাজ্যপালের পদ একটি সাংবিধানিক পদ। সেক্ষেত্রে পুলিশ কি এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে? সে নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে টিভি নাইন বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্তর সঙ্গে।

Governor C V Ananda Bose: রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে পুলিশ? ব্যাখ্যায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি
সিভি আনন্দ বোস, রাজ্যপালImage Credit source: Facebook
Follow Us:
| Edited By: | Updated on: May 03, 2024 | 6:50 PM

কলকাতা: রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন রাজভবনেরই এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী। হেয়ার স্ট্রিট থানায় গত রাতে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলা। এমন অভিযোগ আসার পর কলকাতা পুলিশও জানাচ্ছে, বিষয়টি সংবেদনশীল। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের থেকে পরামর্শ নিচ্ছে পুলিশ। রাজ্যপাল বোসও ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। রাজ্যপালের বিবৃতি, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ভোটের বাংলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। সত্য সামনে আসবে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধেয় এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, রাজ্যপালের পদ একটি সাংবিধানিক পদ। সেক্ষেত্রে পুলিশ কি এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে? সে নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে টিভি নাইন বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্তর সঙ্গে। এক্ষেত্রে তাঁর ব্যাখ্যা, সংবিধানের ৩৬১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল ও রাজপ্রমুখ- এই তিনটি অফিসের বিরুদ্ধে আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তাঁর মতে, ‘এই তিনটি অফিসের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা রুজু করা যায় না। তদন্তও করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে এখন পুলিশের কিছু করার নেই।’

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কথায়, সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপাল নিয়োজিত হন রাষ্ট্রপতির ওয়ারেন্টের মাধ্যমে। সাধারণভাবে তাঁর মেয়াদকাল থাকে পাঁচ বছর। রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন, কোনও রাজ্যপালকে অপসারিত করা দরকার, তবে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের আগেই রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালের অপসারণ করতে পারেন। সেটা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির এক্তিয়ারভুক্ত। দেবাশিস কর গুপ্ত বলেন, ‘অভিযোগের যথোপযুক্ত জায়গা পুলিশের কাছে নয়। এখানে পুলিশে কিছু করণীয় থাকছে না। কারণ, সংবিধানে আদালত ও ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ দেওয়া রয়েছে। কাজেই অভিযোগকারী মহিলাকে উপযুক্ত ফোরামে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়।’

রাজ্যপালের যদি অপসারণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে বিষয়টি ঠিক কীরকম? সে নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে। তাঁর ব্যাখ্যা, রাষ্ট্রপতির অপসারণের ক্ষেত্রে কী করণীয় তা সংবিধানে বলা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সংসদের দুই কক্ষের মধ্যে যে কোনও একটি কক্ষের এক চতুর্থাংশ সদস্য মোশন হিসেবে পেশ করতে পারে। সেই মোশনের ভিত্তিতে অপর কক্ষের সদস্যদের থেকে একটি কমিটি করে তদন্ত করা যেতে পারে। তারপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি রাষ্ট্রপতির অপসারণের প্রয়োজন হয়, তাহলে সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটাভুটিতে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়। কিন্তু রাজ্যপালের ক্ষেত্রে সংবিধানে এমন কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া নেই। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমেই কেউ রাজ্যপালের পদে থাকতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা রয়েছে রাজ্যপালকে আইনসঙ্গতভাবে অপসারণ করার।

দেবাশিস কর গুপ্ত আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে কারও অভিযোগের প্রেক্ষিতে কতদিনে বিচার মিলতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমার কথা উল্লেখ নেই। এক্ষেত্রে একটি গ্রে ম্য়াটার রয়েছে। তবে যিনি রাজ্যপালকে নিয়োগ করেন, তিনিই উপযুক্ত অথরিটি। সমস্ত অভিযোগ তাঁর (রাষ্ট্রপতির) কাছেই যাওয়া উচিত।’ তাঁর মতে, নিশ্চয়ই সব মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রিসেনবল রেস্ট্রিকশনের কথাও বলা রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একজন নাগরিকের সংবিধানে বর্ণিত সব অধিকারই রয়েছে। কিন্তু তিনটি উচ্চ পদের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক রক্ষাকবচও রয়েছে। তার মানে এই নয়, যিনি অভিযোগ করবেন, তার যথাযথ সমাধান হবে না। সেই সুযোগ তো রয়েছে।’