Kudghat Manhole Incident: ম্যানহোলে চার শ্রমিকের মৃত্যুতে পুরসভার কাছে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট

Calcutta High Court: এদিকে ম্যানহোলে নেমে কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ। ২০১৩ সালের এই আইনকে হাতিয়ার করে এবং আদালতের রায়ের উদাহরণ টেনে মামলা করে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

Kudghat Manhole Incident: ম্যানহোলে চার শ্রমিকের মৃত্যুতে পুরসভার কাছে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট
গত ফেব্রুয়ারিতে কুঁদঘাটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফাইল ছবি।

কলকাতা: কুঁদঘাট ম্যানহোলে কাজ করতে গিয়ে চার শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation ) রিপোর্ট তলব করলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। আগামী ১৫ই জানুয়ারি মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্ত ও বিচারপতি রাজর্ষি ভারদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

কুঁদঘাট ম্যানহোলে কাজ করতে গিয়ে চার শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে। সেই মামলায় আইনজীবী রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, কলকাতা পুরসভা ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে এই ঘটনায়। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। কারণ, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যর এ ভাবে চলে যাওয়ার ক্ষতি কখনও পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে পূরণ হয় না।

ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে কলকাতা পুরসভায়। পুরসভা নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী। কেন কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে কুঁদঘাটে ম্যানহোলে পড়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। ম্যানহোলে এ ভাবে মানুষ নামিয়ে কাজ করা আইন বিরুদ্ধ বলে দাবি করা হয়। দ্বিতীয়ত, যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে যে পরিমাণ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল তা দেওয়া হয়নি অভিযোগ নিয়েই জনস্বার্থ মামলাটি হয়।

এরপর কলকাতা পুরসভা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কিন্তু এখনও অবধি সেই কমিটি কোনও রিপোর্ট দেয়নি। মামলাকারী সোমবার আর্জি জানান, এই রিপোর্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তিনি আরটিআই যখন করেন, তাঁকে তা জানানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পুরসভার বিশেষজ্ঞ কমিটি যে রিপোর্ট তৈরি করেছিল তা আদালতে জমা দিতে হবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শীতের কলকাতা। কুঁদঘাট পাম্প হাউসের কাছে ম্যানহোলে কাজ করতে নেমে অসুস্থ হয়ে পড়েন কলকাতা পুরসভার চার কর্মী। ম্যানহোলে কাজ করতে নেমে তাঁরা তলিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাকি দু’জনকে বাঘাযতীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কাউকেই বাঁচানো যায়নি।

এদিকে ম্যানহোলে নেমে কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ। ২০১৩ সালের এই আইনকে হাতিয়ার করে এবং আদালতের রায়ের উদাহরণ টেনে মামলা করে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘প্রহিবিশন অফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যাজ় ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জারস অ্যান্ড দেয়ার রিহ্যাবিলিটেশন বিল’ পাশ হয়। যা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী, নর্দমা, পয়ঃপ্রণালী পরিষ্কার করা পেশায় যুক্ত কাউকে ম্যানহোলে নামিয়ে কাজে নিযুক্ত করলে ওই নিযুক্তকারী ব্যক্তির (বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঠিকাদার) পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। একই সঙ্গে ম্যানহোল বা সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে কাজ করার কাজে যুক্ত সাফাইকর্মী ও তাঁদের পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও আইনে উল্লেখ করা হয়। যদিও আইন রয়েছে খাতায়-কলমে, রাজ্য তথা দেশজুড়ে ম্যানহোলে নেমে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা একাধিকবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: এসএসসি গ্রুপ ডি নিয়োগে সিবিআই অনুসন্ধানের নির্দেশ হাইকোর্টের

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla