Mamata Banerjee: ‘বাংলার জল বিক্রি করে দিলে দেশজুড়ে আন্দোলন হবে’, হুঁশিয়ারি মমতার
Mamata Banerjee: তিস্তা জলবণ্টনকে সামনে রেখে এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মমতার কথায়, "বাংলাকে বঞ্চনা এবং বাংলার জল বিক্রি করে দেওয়া মানে আগামিদিন গঙ্গার ভাঙন আরও বাড়বে। মানুষের ঘরবাড়ি জলে তলিয়ে যাবে।"
কলকাতা: গঙ্গা-তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তা নিয়েই কেন্দ্রকে তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে নবান্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তিস্তায় ১৪টা হাইড্রোইলেট্রিক পাওয়ার হয়েছে তখন চোখে দেখেনি। ফরাক্কা নিয়ে আবার চুক্তি রিনিউ হচ্ছে আমাদের জানালো না। আগে এগুলো নিয়ে মিটিং হয়েছে। বাংলাকে টোটাল বাদ দিয়ে। জলের আরেক নাম জীবন। ওরা জানে না উত্তরবঙ্গের একটা মানুষ আগামিদিন পানীয় জল পাবে না। জল নেই তিস্তায়। গায়ের জোরে ভাবছে নর্থ বেঙ্গল থেকে জিতেছি বলে যা খুশি করব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, জল বণ্টন নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলে কোনও সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেওয়া হবে না। মমতার হুঁশিয়ারি, বাংলাকে না জানিয়ে এক তরফা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বাংলাজুড়ে আন্দোলন চলবে, দেশজুড়ে আন্দোলন হবে। মমতার কথায়, “বলছে তিস্তার জল দেবে। যেন মহারাজ সব। এখনও পর্যন্ত শপথ হল না সাংসদদের। বাংলার জল বিক্রি করে দিল না জানিয়ে।”
তিস্তা, গঙ্গার জলবণ্টনকে সামনে রেখে এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মমতার কথায়, “বাংলাকে বঞ্চনা এবং বাংলার জল বিক্রি করে দেওয়া মানে আগামিদিন গঙ্গার ভাঙন আরও বাড়বে। মানুষের ঘরবাড়ি জলে তলিয়ে যাবে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দু’ দিনের সফরে ভারতে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০টি মউ স্বাক্ষর হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ফরাক্কা-গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার দিকে এগিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর খুবই ভাল সম্পর্ক। এর আগে নরেন্দ্র মোদী-শেখ হাসিনা-মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে এক মঞ্চেও দেখা গিয়েছে। তবে এই জলচুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বাংলার গঙ্গা, ভাগীরথী কিংবা তিস্তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হলে তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে অন্তত অবগত করা উচিত।
এদিন ফরাক্কা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। বলেন, ড্রেজিং করে না। তার প্রভাব কলকাতা বন্দরে পড়ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকার সলিলসমাধি হচ্ছে। মমতা বলেন, “এখন বলছে সব জল দিয়ে দাও। জল দিতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু থাকলে তো দেব। আমি বন্ধুত্ব করতে চাই। কিন্তু বাংলাকে বিক্রি করার বিনিময়ে নয়।”