Mike Denes Controversy: বল বিকৃতির অভিযোগে কাঠগড়ায় সচিন! সঙ্গে ছিলেন সৌরভও, ক্রিকেটের এই অন্ধকার অতীত জানেন?
Sachin Tendulkar Controversy: ল বিকৃতি ক্রিকেটের আইনে মস্ত বড় অপরাধ। তাও কিনা ক্রিকেট ঈশ্বরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ? তোলপার হয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব। রাগে ফেটে পড়েন ভারতীয় সমর্থকরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ডেনেসের কুশপুত্তলিকাও পোড়ানো হয়। বল বিকৃতির অভিযোগে সচিনকে একট ম্যাচে সাসপেন্ড করা হয়। অতিরিক্ত আবেদনের অভিযোগে একটি টেস্ট ম্য়াচে সাসপেন্ড ছিলেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ। এই একই অভিযোগে হরভজন সিং, শিবসুন্দর দাস ও দীপ দাশগুপ্তকে একটি করে ম্যাচের জন্য বাতিল করা হয়। অধিনায়ক হয়ে দলের আচরণ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার অভিযোগে একটি টেস্ট ও দুটি ওয়ান ডে ম্যাচে বাতিল করা হয়েছিল সৌরভকে

নয়াদিল্লি: বিশ্বকাপ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। এই সিরিজ জিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভারতীয় শিবিরে। এ বার পরবর্তী লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি মাসেই দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে ভারতীয় বিমান। সেখানে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে তিনটি সিরিজে মুখোমুখি হবে ভারত। এখনও পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে ৪২ টি টেস্ট খেলা হয়েছে, যার মধ্যে ভারত ১৫ টিতে জিতেছে ভারত। এবং ১৭ টিতে পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে ভারতের টেস্ট রেকর্ড তেমন ভালো নয়। যদিও ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ক্রিকেট সম্পর্ক বরবার সৌহার্দ্যপূর্ণ । তবে ২০০১ সালে একটি বড় বিপর্যয় আসে। ক্রিকেট বিশ্বে যা ‘মাইক ডেনেস বিতর্ক’ নামে পরিচিত। যাতে নাম জড়িয়েছিল সচিন তেন্ডুলকরসহ আরও পাঁচ ভারতীয় তারকার। কী এই বিতর্ক? বিস্তারিত জেনে নিন TV9 Bangla Sports-এর এই প্রতিবেদনে।
২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল ভারতীয় দল। সেখানে দলের ছয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ‘বল টেম্পারিং’ সহ অনেক কিছুর অভিযোগ ওঠে। পোর্ট এলিজাবেথে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনের খেলা সবে শেষ হয়েছে।ম্যাচ শেষে সাজঘরে ফিরেছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। এমন সময় সচিন তেন্ডুলকরকে জরুরি তলব। শুধু সচিনই নয়, ডেকে পাঠানো হয় তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, হরভজন সিং, বীরেন্দ্র সেওয়াগ, শিবসুন্দর দাস ও দীপ দাশগুপ্তকে। কী কারণে ডেকে পাঠানো হয় তাঁদের? অভিযোগ বল টেম্পারিং করেছেন সচিন। এ কথা শুনে অবাক সকলেই।
ওই ম্যাচের রেফারি মাইক ডেনেস দাবি করেন, ক্যামেরার একাধিকবার মাস্টার ব্লাস্টারকে নখ দিয়ে বলের সিম খুঁটতে দেখা গিয়েছে। আর বল বিকৃতি ক্রিকেটের আইনে মস্ত বড় অপরাধ। যে অভিযোগে কিছু বছর আগে নির্বাসিত করা হয়েছিলেন অজি তারকা ডেভিড ওয়ার্নারকে। অভিযোগ আনা হয় স্টিভ স্মিথের বিরুদ্ধেও। তবে ক্রিকেট ঈশ্বরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ? তোলপার হয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব। রাগে ফেটে পড়েন ভারতীয় সমর্থকরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ডেনেসের কুশপুত্তলিকাও পোড়ানো হয়। বল বিকৃতির অভিযোগে সচিনকে একট ম্যাচে সাসপেন্ড করা হয়। অতিরিক্ত আবেদনের অভিযোগে একটি টেস্ট ম্য়াচে সাসপেন্ড ছিলেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ। এই একই অভিযোগে হরভজন সিং, শিবসুন্দর দাস ও দীপ দাশগুপ্তকে একটি করে ম্যাচের জন্য বাতিল করা হয়। অধিনায়ক হয়ে দলের আচরণ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার অভিযোগে একটি টেস্ট ও দুটি ওয়ান ডে ম্যাচে বাতিল করা হয়েছিল সৌরভকে। যদিও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ডেনেস। সেইসময় বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ডেনেসকে বর্ণবিদ্বেষী বলে দাগায়। আইসিসির পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিলেন ইংরেজ রেফারি ডেনেস। তবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা । তৃতীয় টেস্টে রেফারির পদ থেকে সরানো হয় ডেনেসকে। দুটি আনঅফিশিয়াল টেস্ট খেলে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষমেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল জানায়, সচিন নির্দোষ। বল বিকৃতি করেননি তিনি। ২৪ বছরের বর্নময় কেরিয়ারে বরাবর বিতর্করে পাশ কাটিয়ে চলেছেন মাস্টার। সততা, একাগ্রতা, দক্ষতা তাঁকে ভগবানের আসনে বসিয়েছে। তিনি সচিন, এত সহজে যে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করা যাবে না! তাই শেষমেশ হার স্বীকার করে নিতে হয় ইংরেজ রেফারিকে।





