করোনা আক্রান্তকে সাহায্য করায় সামাজিক বয়কটের শিকার!

এলাকায় করোনা (Corona) আক্রান্ত রোগীকে সাহায্য় করতে দিনরাত ছুটে যান তাঁরা। আক্রান্তদের পাশে যখন কেউ থাকে না তখন হাসপাতালে পৌঁছনো থেকে ওষুধ নিয়ে আসা সবটাই করেন তাঁরা। কিন্তু করোনা আক্রান্ত পরিবারকে সাহায্য করে নিজেরাই সামাজিক বয়কটের শিকার হলেন তাঁরা!

করোনা আক্রান্তকে সাহায্য করায় সামাজিক বয়কটের শিকার!
নিজস্ব চিত্র

আলিপুরদুয়ার: বিমল চক্রবর্তী, উজ্বল সরকার, গুড্ডু সিং,যাদব অধিকারী, বাপ্পা সরকার, সুনিল দাস। এলাকায় করোনা (Corona) আক্রান্ত রোগীকে সাহায্য় করতে দিনরাত ছুটে যান তাঁরা। আক্রান্তদের পাশে যখন কেউ থাকে না তখন হাসপাতালে পৌঁছনো থেকে ওষুধ নিয়ে আসা সবটাই করেন তাঁরা। কিন্তু করোনা আক্রান্ত পরিবারকে সাহায্য করে নিজেরাই সামাজিক বয়কটের শিকার হলেন তাঁরা! সংক্রমণ ভীতিতে তাঁদের বাড়ি ফিরতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। নিরন্ন অবস্থায় রাত কাটল একটি ক্লাব ঘরে!

জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা জনৈক দীপক গাঙ্গুলি করোনা আক্রান্ত হন। তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন এলাকার সাত যুবক। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এদিকে ওই করোনা আক্রান্ত পরিবারকে সাহায্য করায় সামাজিক বয়কটের শিকার হন ওই সাত যুবক। তাঁদের নিজেদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি খাবারটুকুও পাননি তাঁরা।

বাড়িতে ঢুকতে না পেরে আলিপুরদুয়ার পল্লিমঙ্গল ক্লাবে আশ্রয় পেয়েছেন। কিন্তু খাবার পাননি কেউই। মঙ্গলবার এই খবর পৌঁছয় আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের কানে। অবশেষে তিনি এসে ওই যুবকদের মুখে খাবার তুলে দেন। সেই সঙ্গে করোনা নিয়ে মানুষের অযথা ভীতি ভাঙাতে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেন।

আরও পড়ুন: পরিচয়পত্র না থাকলেও করোনা আক্রান্তকে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হাসপাতাল, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের 

এদিকে এই সামাজিক বয়কটের মধ্যে কেউ কেউ রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওই সাহায্যকারী যুবকদের মধ্যে কেউ কেউ তৃণমূলের কর্মী ছিলেন বলে তাঁদের বয়কট করা হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তবে বিধায়কের হস্তক্ষেপে এখন যুবকরা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন বলে খবর।