‘বহিরাগত’ ওমপ্রকাশকে নিয়ে ক্ষোভ, শিলিগুড়ি তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত

প্রার্থী হিসেবে ওমপ্রকাশ মিশ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দল ছাড়লেন জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল ও সম্পাদক জোৎস্না আগরওয়াল, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জোর সম্ভাবনা

‘বহিরাগত’ ওমপ্রকাশকে নিয়ে ক্ষোভ, শিলিগুড়ি তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত
নিজস্ব চিত্র

শিলিগুড়ি: একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা (TMC Candidate List) প্রকাশের পর থেকেই জায়গায় জায়গায় চলছে টিকিট না পাওয়া নেতাদের ক্ষোভ এবং দলবদল। এই প্রেক্ষিতে শিলিগুড়িতে বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিনই দল ছেড়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন নান্টু পাল। এবার কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা ‘বহিরাগত’ প্রার্থী ওমপ্রকাশ মিশ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দল ছাড়লেন জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল ও সম্পাদক জোৎস্না আগরওয়াল।

নান্টু পাল আগেই ঘোষণা করেছেন তিনি নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দীপক শীল ও জোৎস্না আগরওয়াল জানালেন দলের মধ্যে অসম্মান ও বঞ্চনা সয়ে আর কাজ করতে পারছেন না। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জানিয়ে দল ছাড়লেন শিলিগুড়ির দুই নেতা। সেই সঙ্গে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যে তাঁদের কথাবার্তা চলছে সেকথাও জানিয়েছেন দীপক শীল।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে দীপক শীল ও জোৎস্না আগরওয়াল কার্যত একই সুরে বলেন, দলের দুঃসময়ে তাঁরা কাজ করেছেন। দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ভালবেসেছেন। কিন্তু দলে ন্যূনতম সম্মান পাননি। বরং দীর্ঘ বঞ্চনা শিকার হয়েছেন। তাঁদের কথায়, “আমরা অর্থ, পদ কিছুই চাইনি। কিন্তু কলকাতার নেতারা আমাদের শুধুই অসম্মান করেছেন। আমাদের কোনো বক্তব্য কখনও শোনা হয়নি। আমাদের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। জেলায় দলের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বসার চেয়ারটুকুও পাইনি। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসে আর থাকতে পারছি না।”

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জোৎস্না আগরওয়ালের নাম ঘোষণা করেই ফেলেছিল রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। পরে প্রার্থী বদল করে এই কেন্দ্রে রুদ্র ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয়। তিনি জেতেনও। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে জ্যোৎস্না আগরওয়াল বলেন, “আমি দলে প্রাক্তন কাউন্সিলর। আমাকে ২০১১-তে টিকিট দিয়েও পরে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। দলের স্বার্থেই সব মেনে নিয়েছি। কিন্তু বারংবার আত্মসম্মানে আঘাত করা হয়েছে।”

অন্যদিকে দীপক শীল বলেন, “গত পুরভোটে দলের টিকিট চেয়েছিলাম। তা দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও দলের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করেছি। ভোট করেছি। এতদিন দলেই ছিলাম। এবার ফের বহিরাগত প্রার্থীকে আমাদের ঘাড়ে গুঁজে দেওয়া হয়েছে। তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই দল ছাড়লাম।”

সিপিএম নেতা তথা শিলিগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যকে পরাস্ত করতে এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে শহরের কোনও নেতাকে টিকিট দেওয়ার কথা বলেছিলেন নান্টু পালরা। কিন্তু তা না হওয়ায় শিলিগুড়ির তৃণমূল নেতাদের মত, ওমপ্রকাশবাবুকে প্রার্থী করে কার্যত অশোকবাবুকে ওয়াক ওভার দিয়ে দেওয়া হল। এই প্রেক্ষিতে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। তাই নান্টু পালের পর এবার দল ছাড়লেন দীপক শীল ও জোৎস্না আগরওয়াল।

আরও পড়ুন: ‘এবারে নতুন ভোট দেখবেন আপনারা’, নন্দীগ্রাম দিবসে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা শুভেন্দুর

এ নিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার যেন দায়সারা ভাবেই জানালেন, ‘ব্যক্তিগত ভাবে দুই নেতার কাছে আমার আবেদন দল ছাড়বেন না। রাজ্য নেতৃত্বকে সব জানাচ্ছি।