‘এত গরম! আপনারা চাইলে আমি এসি লাগিয়ে দিতে পারি’, নিজাম প্যালেসে ‘মমতাময়ী’ মুখ্যমন্ত্রী

নিজাম প্যালেসে ঘুরতে ঘুরতেই কখনও আবার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মমতা জিজ্ঞেস করলেন, এখানে এসি নেই কেন?

'এত গরম! আপনারা চাইলে আমি এসি লাগিয়ে দিতে পারি', নিজাম প্যালেসে 'মমতাময়ী' মুখ্যমন্ত্রী
অলংকরণ- অভীক দেবনাথ

সৌরভ গুহ: নিজাম প্যালেসের বাইরে তখন রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ চলছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূলের শয়ে শয়ে কর্মী সমর্থকেরা। কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীকে লক্ষ্য করে কখনও উড়ে আসছে বোতল, কখনও চলছে ইট বৃষ্টি। এককথায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। ঠিক সেই সময় নিজাম প্যালেসের ভেতরের দৃশ্যটা পুরোপুরি অন্যরকম। তখন সিবিআই-এর দফতর যেন রেকি করছেন মমতা। কোথায় কী রয়েছে, কোন জায়গায় কী নেই, তা ঘুরে দেখছেন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী। ঘুরতে ঘুরতেই কখনও আবার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানে এসি নেই কেন? এত বড় দফতরে ক্যান্টিনও নেই!’

সোমবার সকালে রাজ্যে প্রথম সারির দুই মন্ত্রী এবং দুই প্রাক্তন মন্ত্রীকে আচমকাই বাড়ি থেকে তুলে এনে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। পাঁচ বছর পুরনো এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া সতীর্থদের পাশে দাঁড়াতে মুহূর্তের মধ্যে নিজাম প্যালেসে ছুটে যান মমতা। রুদ্রমূর্তি নিয়ে ঢোকেন সিবিআই দফতরে। সটান বলে দেন, “আমাকেও গ্রেফতার করতে হবে।” এই অবস্থায় চাপের মুখে কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে যান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরাও। চাপ বাড়িয়ে একে একে ঢুকে শুরু করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্রমশ বাড়তে শুরু করে চাপানউতোর। ১৪ তলায় ঠায় বসে থাকেন মমতা।

বাইরে ততক্ষণে প্রায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি চলছে শাসকদলের কর্মীদের। ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। কিন্তু উল্টোদিকে সময় যত গড়াতে থাকে, ধীরে ধীরে গরম মেজাজ নরম হতে শুরু করে মমতার। জননেত্রী হওয়ার কারণে, মানুষকে কাছে টেনে নিতে বা মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে তাঁর কখনই সমস্যা হয়নি। কেননা মমতার সেটাই ইউএসপি। এ দিন নিজাম প্যালেসেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করেন তিনি। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর একটা সময় নিজাম প্যালেসটা ঘুরে দেখতে বের হন।

আরও পড়ুন: নারদকাণ্ড: অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন ববি-সুব্রত-মদনরা, হাইকোর্টে যেতে পারে সিবিআই

শুরু হয় দফতরের এ দিক ও দিকে তাঁর হাঁটাহাঁটি। ঘুরতে ঘুরতে কোথাও দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, “এত গরম! এখানে একটা এসি নেই কেন? আপনারা যদি চান আমি একটা এসি লাগিয়ে দিতে পারি। এতগুলো বাঙালি ছেলেমেয়ে কাজ করে একটা এসি চলবে না!” কিছু দূর এগিয়ে আবার জানতে চান, “এতজন কাজ করেন একটা ক্যান্টিন নেই কেন?” ততক্ষণে অনেকের সঙ্গে বেশ আলাপ জমে উঠেছে তাঁর। এর মাঝেই কেউ কেউ এসে ঢিপ করে প্রণামও করে ফেলেন। এমনটাই খবর সূত্রের।

শুধু তাই নয়। সিবিআই-এর কয়েকজন আধিকারিকের সঙ্গে বেশ মন খুলেই অনেক বিষয়ে কথা বলেন মমতা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যে সরকারের কাজ করেন সেই সরকারের মতো করেই তো চলতে হবে। আমাদেরও তো কাজ চলবে।” এমনটাও জানা গিয়েছে বিশ্বস্ত সূত্র মারফৎ।

আরও পড়ুন: নারদ মামলা অন্য রাজ্যে নিয়ে যেতে চায় সিবিআই, রাতেই আবেদন হাইকোর্টে