মুখ ঢেকে যায় থলেতে, করোনা ভুলে নেশায় বুঁদ মানুষ উপচে পড়ছেন মদ দোকানে

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি থেকে দক্ষিণবঙ্গের হুগলি, মদের দোকানে দীর্ঘ লাইনের ছবি সর্বত্রই এক। সেই সুরাপ্রেমীদের উত্তরও তেমনি সপাট। কেউ বলছেন ১৫ দিন ঘরবন্দি হয়ে কাটাব কীভাবে? কেউ আবার বলছেন, রাতে ঘুম আসেনা তো না খেলে! কারও কাছে আবার অতিমারিতে এই মদই স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করছে!

মুখ ঢেকে যায় থলেতে, করোনা ভুলে নেশায় বুঁদ মানুষ উপচে পড়ছেন মদ দোকানে
নিজস্ব চিত্র

পশ্চিমবঙ্গ: এই ভিড়ের মধ্যে কী করছেন? মদের দোকানের সামনে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখেই ব্যাগে মুখ ঢাকলেন এক প্রৌঢ়। সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেই চলেছেন। তিনি ঠায় ব্যাগে মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে। নিরুত্তর। নড়াচড়া বন্ধ। কোথাও আবার তরুণীকে দেখা গেল হেলমেট মাথায় মদের দোকানের দিকে হনহন করে হেঁটে যেতে। শনিবার, রাজ্যে কার্যত লকডাউনের আগের দিন এমনই সব ছবি ধরা পড়ল শিলিগুড়ি থেকে বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ থেকে মেদিনীপুরে। রবিবার থেকে রাজ্যে ১৫ দিনের লকডাউন। আর তাতেই যেন সুরা প্রেমীদের ঘুম ছুটেছে।

রাজ্যে উর্ধমুখী করোনা (Corona) গ্রাফ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রবিবার থেকে আগামী ১৫ দিন রাজ্যে কার্যত লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এদিকে রবিবার থেকে থেকে বন্ধ থাকবে অফ শপ। তার আগে যে কোনওভাবে ‘রসদ’ সংগ্রহে মরিয়া সুরাপ্রেমীরা। দোকান খুলতে তখনও দেরি। তাঁরা কিন্তু হাজির সারিতে-সারিতে।

জলপাইগুড়ি শহর। মদ কিনতে বড় বড় বাজারের থলে হাতে হাজির কয়েকজন। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা দেখে লজ্জা আর সংকোচে সেই থলেতেই মুখ ঢাকলেন তাঁরা। এভাবেই গলির দিকে হাঁটা দিলেন। মদ কেনার জন্য হাতে সময় আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তার আগে বাড়িতে মদ মজুত করতে ব্যস্ত তাঁরা।

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি থেকে দক্ষিণবঙ্গের হুগলি, মদের দোকানে দীর্ঘ লাইনের ছবি সর্বত্রই এক। সেই সুরাপ্রেমীদের উত্তরও তেমনি সপাট। কেউ বলছেন ১৫ দিন ঘরবন্দি হয়ে কাটাব কীভাবে? কেউ আবার বলছেন, রাতে ঘুম আসেনা তো না খেলে! কারও কাছে আবার অতিমারিতে এই মদই স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করছে! এঁদের দেখে কে বলবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ২০ হাজার ছাড়িয়েছে নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মারা গিয়েছেন ১৩৬ জন! যার কারণেই এই আংশিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত সরকারের।

আরও পড়ুন: ‘রাতে একটু না খেলে ঘুম হয় না,’ লকডাউন ঘোষণা হতেই মদের দোকানে লম্বা লাইন

কাটোয়ায় দেখা গেল সবজি বাজারে লোক নেই। তবে মদের দোকানে দীর্ঘ লাইন। তাতে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই, অনেকের মুখে মাস্কও নেই। সামাজিক দূরত্ব বিধি শিকেয় তুলে দিয়ে  মদের জন্য দোকানে হত্যে দিয়েছেন ‘সংবেদনশীল নাগরিকরা’। কোভিডের গ্রাফ জেলায় জেলায় উর্ধমুখী। তবু মদ বলে কথা। তাই করোনাকে তোয়াক্কা না করে এভাবেই একেবারে সপ্তাহ খানেকের জন্য ব্যাগ ভর্তি বোতল ঘরে তুললেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়াও ভরছে এই সব ছবিতে।