বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া, দুবাইয়ে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য রাজকীয় আয়োজন ব্যবসায়ীর
দুবাইয়ে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের ত্রাতা হলেন যোগেশ দোশি। আল মিজান গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। দুবাইয়ে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য একটি বিলাসবহুল ভবন খুলে দিয়েছেন তিনি। প্রায় ৬৪টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ওই বিলাবহুল ভবনে। বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওমান : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বহু ভারতীয় আটকে রয়েছেন। কেউ কাজের সূত্রে থাকছেন। কেউ আবার ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছেন। দুবাইয়ে এমন ভারতীয়র সংখ্যা প্রচুর। ফ্লাইট পরিষেবা এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। তাই বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না। এবার তাঁদেরই ত্রাতা হয়ে উঠলেন এক ভারতীয় ব্যবসায়ী। দুবাইয়ে ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য নিজের বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছেন তিনি। বিনামূল্যে থাকতে দেওয়া হচ্ছে ও খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে দুবাইয়ে আটকে পড়া ভারতীয়দের।
দুবাইয়ে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের সেই ত্রাতা হলেন যোগেশ দোশি। আল মিজান গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। দুবাইয়ে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য একটি বিলাসবহুল ভবন খুলে দিয়েছেন তিনি। প্রায় ৬৪টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ওই বিলাবহুল ভবনে। বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দোশি জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ইন্ডিয়ান পিপলস ফোরাম এবং দুবাইতে ভারতের কনস্যুলেটের ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে ১২৫ জনেরও বেশি ভারতীয়কে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
দুবাইয়ে ঘুরতে গিয়ে বহু ভারতীয় একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা জানিয়েছেন, হোটেলের বুকিংয়ের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁদের হোটেল ছাড়তে হয়। এদিকে থাকার কোনও রকম ব্যবস্থা ছিল না। ফ্লাইট পরিষেবাও স্বাভাবিক নেই। দেশে ফেরার টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন দোশি। এই মুহূর্তে তাঁরা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
শুধুমাত্র দোশি নন, আরও অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। দুবাইয়ের অদূরে আজমান নামে একটি জায়গায় এক ভারতীয় ব্যবসায়ী তাঁর ফার্মহাউজটি খুলে দিয়েছেন ভারতীয়দের জন্য। ব্যবসায়ীর নাম ধীরজ জৈন। আটকে পড়া ভারতীয়দের থাকার বন্দোবস্ত করেছেন। ফার্ম হাউজ়ে থেকে অন্য কোথাও যেতে ১১টি গাড়ি ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ১১ দিনে পড়ল। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়িই শেষ হতে চলেছে। তবে কবে যুদ্ধ শেষ হবে, সেই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, ট্রাম্প বলেন, “আমরা এটি শেষ করার খুব কাছাকাছি।”এই বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গেও কথা হয়েছে ট্রাম্পের। যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করার জন্য ট্রাম্পকে বেশ কিছু পরামর্শও দেন পুতিন। তারপরই ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দেন। এদিকে, ট্রাম্পের এই ইঙ্গিতের পরই ইরানের হুঁশিয়ারি যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেটা তারা ঠিক করবে।
