NRC Data: AIIMS-র পর এবার NRC-তে তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন, আঁচ পড়তে পারে বাংলার রাজনীতিতে?
NRC Data: NRC-র তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ সিএজি। সেই রিপোর্ট অসমের বিধানসভাতেও পেশ করা হয়েছে।

নয়া দিল্লি: শুরু থেকেই অসমে এনআরসি নিয়ে একাধিক বিতর্ক দেখা গিয়েছে। এবার আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এনআরসি (NRC)। কিন্তু এবার কোনও নীতিগত বিতর্ক নয় বরং কৌশলগত। আর তা তুলেছেন স্বয়ং দেশের কম্পট্রলার ও অডিটর জেনারেল অব ইন্ডিয়া বা সিএজি (Comptoller and Auditor General of India)।
সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিনা আঘাত নেমে এসেছিল। জানা গিয়েছিল, চিন থেকে AIIMS-র সার্ভার হ্যাক করা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী সহ কোটি কোটি মানুষের তথ্য ভুল হাতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল মাসখানেক আগেই। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রশ্ন উঠেছে অসমে NRC-র ভূরি ভূরি তথ্য নিয়ে। অসমের এনআরসি-র তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ক্যাগ। প্রশ্ন তুলেছেন, কোটি কোটি মানুষের ডাটা সুরক্ষা নিয়ে। ক্যাগের তৈরি করা রিপোর্ট নিয়ে গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। গত শুক্রবার এই রিপোর্ট পেশ হয়েছে অসম বিধানসভাতেও।
অসমের জন্য ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজ়েনস (NRC) আপডেটের ক্ষেত্রে চরম অসঙ্গতি শনাক্ত করেছে সিএজি। সংস্থার যুক্তি এই এনআরসি আপডেটের ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এই সফটওয়্যার এনআরসি তথ্য সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত। তার ধারণা, এর ফলে ‘তথ্য় কারচুপির’ একটি ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। CAG-র অভিযোগ, মূল সফ্টওয়্যারটিতে মোট ২১৫ রকমের পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে হ্যাকাররা তথ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেন হ্যাকাররা। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এনআরসি আপডেট প্রক্রিয়ায়, একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং নির্ভরযোগ্য সফ্টওয়্যার তৈরি করা প্রয়োজন ছিল। তবে মূল সফটওয়ারে এলোমেলোভাবে ২১৫টি সফ্টওয়্যার ইউটিলিটি যুক্ত করার ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে অডিটে।” সিএজির এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “সফটওয়্যার ও ইউটিলিটির এলোমেলো ডেভেলপমেন্টের জন্য এনআরসি ডেটা ক্যাপচার এবং সংশোধনের কোনও অডিট ট্রেল ছাড়াই তথ্য বিকৃতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।” শেষে এই রিপোর্টে বলা হয়েছে,“ফলে ১,৫৭৯.৭৮ কোটি টাকা খরচের পরও একটি বৈধ, ত্রুটি-মুক্ত NRC তৈরির উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।”
শুধু তথ্য সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন নয় তথ্য কারচুপি থেকে শুরু করে মানুষের তথ্য নিয়ে অনেক অবৈধ কর্মকাণ্ডও হতে পারে। আর যেখানে এই তথ্যগুলি মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে, সেখানে এই রিপোর্ট বিরোধীদের হাতে একটা বড় হাতিয়ার তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিকে এই রিপোর্ট প্রকাশের পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাংবাদিকদের বলেছেন, “এনআরসি আপডেটের পদ্ধতিতে আমরা অনিয়ম নিয়ে সিএজি-র রিপোর্টের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। এখন যেহেতু এই রিপোর্ট জমা হয়েছে আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে পারি।”
প্রসঙ্গত,পশ্চিমবঙ্গেও NRC বরাবরের একটি ইস্যু। এই রিপোর্ট শুধু তথ্য় সুরক্ষার দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাংলায় যাঁরা এনআরসি দাবি করে আসছে তাঁদের কাছে বিজেপিকে একটু হলেও ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের। এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা তথা রাজ্য সম্পাদক বলেছেন, “সবাই বলেছিল সিএএ আসবে। তারপর এনআরসি, এনপিআর হবে। ডিটেনশন ক্যাম্প হবে। আমি বলেছিলাম অসমের থেকে অভিজ্ঞতা নাও। আমরা প্রথম থেকেই বলেছিলাম এই সিএএ, এনআরসি,এনপিআর আসলে মানুষকে ভাগ করার প্রক্রিয়া।” তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “যাঁদের আধার কার্ড রয়েছে এবং ভোটার তালিকায় রয়েছেন, ভোট দিয়েছেন তাঁরা এই দেশের নাগরিক। তাঁরা ভোট দিয়েছেন, এই দেশের সরকার নির্বাচন করেছেন। এর বাইরে জোর করে যেগুলো হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই।” অসমের এনআরসি-র তথ্য় কারচুপি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে খোদ সিএজি। এতে শুধুমাত্র তথ্য় সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি, নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর এর আঁচ এসে পড়েছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানেও। বাংলার বিরোধীরা বরাবরই এনআরসি-র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। আর বিজেপি তত এর পক্ষে সওয়াল করেছে।





